ঢাকা | বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত, পুকুরে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

একমাত্র দুই সন্তানকে হারিয়ে পাথর বাবা-মা

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৯ জুন, ২০২৬ দুপুর ১:০৬
ad003
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। পরিবারের সদস্যরা যখন বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে দুই সহোদর শিশুকন্যা। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশু হলো হ্যান্ডট্রলি চালক নিজাম উদ্দিনের মেয়ে নিহা আক্তার (৭) ও নোহা আক্তার (৩)। এই দুই মেয়েই ছিল নিজাম উদ্দিনের একমাত্র সন্তান।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার নিজাম উদ্দিনের ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। বাড়ির সবাই বিয়ের আয়োজন ও অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় শিশুদের মা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে গল্পে মগ্ন ছিলেন এবং বাবা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একপর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যায় দুই বোন। পরে অসাবধানতাবশত তারা পানিতে তলিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর পুকুরে একটি শিশুর দেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী দ্রুত দুই শিশুকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

প্রতিবেশী মিজানুর রহমান জানান, বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেই এমন দুর্ঘটনা কেউ কল্পনাও করেনি। নিজাম উদ্দিনের আর কোনো সন্তান নেই। একসঙ্গে দুই মেয়ের মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই শোকে রূপ নিয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব পালনে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই শিশুর মৃত্যুর পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফনের প্রস্তুতি শুরু করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অপমৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম বলেন, অস্বাভাবিক বা অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশকে অবহিত করার বিষয়ে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও নিয়ম অনুসরণ না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, এ ধরনের ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে পুলিশকে অবহিত করা উচিত ছিল। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT