বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন আল রশিদের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা আজ শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত জানাজায় জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসমাল আলমগীর, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী অংশ নেন।
পরে মরহুমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে বিএনপির পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব। এছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন।
সংসদ ভবনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে তাঁর মরদেহ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা শেষে নেতাকর্মীরা প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এসময় মরহুমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, “হারুন-আল-রশিদের আকস্মিক মৃত্যুতে বিএনপি একজন অভিভাবকতুল্য প্রবীণ নেতাকে হারিয়েছে, যা দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
রিজভী আরও বলেন, “তিনি ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান, সৎ, সুপরিচিত এবং দূরদর্শী একজন রাজনীতিবিদ। প্রধান হুইপ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি অত্যন্ত সততার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দেশের বর্তমান জটিল ও সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর মতো নীতিবান নেতার প্রয়োজন ছিল। রাজনীতিতে ন্যায্যতা ও আপসহীনতার যে বিরল আদর্শ তিনি ধারণ করেছিলেন, মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তা অটুট ছিল।”
নয়াপল্টনে জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
আগামীকাল শনিবার(২০ জুন) বাদ জোহর সেখানে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
এদিকে, হারুন আল রশিদে মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে গভীরভাবে আস্থাশীল হারুন আল রশীদ বিএনপিকে শক্তিশালী, গতিশীল ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করেছেন।’
তিনি আরও জানান, সরকারের মন্ত্রী হিসেবে তিনি যোগ্যতার সঙ্গে ও সৎভাবে কাজ করে গেছেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
মির্জা ফখরুল শোকবার্তায় বলেন, তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত হয়েছি। মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন হারুন আল রশীদকে জান্নাত নসীব এবং শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩- আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩- আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরবর্তীতে চীফ হুইপ নির্বাচিত হন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রী সভায় তিনি ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ১৯৯৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বন পালন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য ছিলেন। কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক গুনাবলীর কারনে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন।