জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও উপকূলীয় অঞ্চলে ঘন ঘন আঘাত হানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনার কয়রায় ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির (ইউডিএমসি) সদস্যদের নিয়ে কন্টিনজেন্সি প্ল্যান শেয়ারিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টায় কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউডিএমসি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় করণীয় বিষয়ে প্রস্তুতকৃত কন্টিনজেন্সি প্ল্যান উপস্থাপন করা হয়। এতে দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার কার্যক্রম, জরুরি খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় উপজেলা কয়রা প্রায়ই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। তাই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম পরিকল্পনা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একটি বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর কন্টিনজেন্সি প্ল্যান দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জরুরি সেবাদানকে সহজতর করতে পারে।
কয়রা সদর ইউপি’র (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান এস এম লুৎফার রহমানের সভাপতিত্বে এবং উত্তরণের প্রজেক্ট অফিসার তানিয়া সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াছাদ আলী, ইউপি সদস্য হরেন্দ্রনাথ সরকার, শেখ আবুল কালাম আজাদ, নাজমুচ্ছায়াদাত, মোস্তফা শফিকুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, মূর্শিদা খাতুন ও শাহানার জামাল।
এছাড়া ইউডিএমসি সদস্য মুনসুর রহমান সানা, ফরহাদ হোসেন, মনিরুজ্জামান, আশিকুজ্জামান, এবি সিদ্দিকি এবং উত্তরণের ভলেন্টিয়ার শীবানি সরকারসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।