বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ‘ফিরে আসা’ এখন একটি রাজনৈতিক শব্দবন্ধে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল একটি ব্যক্তির প্রত্যাবর্তনের প্রশ্ন নয়; বরং একটি যুগ, একটি শাসন ব্যবস্থা এবং একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসতে পারে কি না সেই প্রশ্ন। গত দেড় দশকে বাংলাদেশ এমন এক রাষ্ট্র ব্যবস্থা দেখেছে, যেখানে ইলেকশন ছিল কিন্তু ভোটের নিশ্চয়তা ছিল না, আদালত ছিল কিন্তু বিচার নিয়ে আস্থা ছিল না, পার্লামেন্ট ছিল কিন্তু কার্যকর বিরোধী দল ছিল না, গণমাধ্যম ছিল কিন্তু স্বাধীনতা ছিল সীমিত। এই বাস্তবতাকে অনেকে সরাসরি ফ্যাসিবাদ বলছেন, কেউ বলছেন কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা, কেউ বলছেন উন্নয়নের মোড়কে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার শাসন। কিন্তু শব্দ যাই হোক, বাস্তবতা ছিল একটাই রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার অধীনে চলে গিয়েছিল।
এই কারণেই শেখ হাসিনার ফিরে আসার প্রশ্নটি এখন শুধুই রাজনৈতিক নয়, এটি নৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক প্রশ্নও। কারণ, যেই জনগণ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাস্তায় নেমেছিল, তারা শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নামেনি; তারা একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান চেয়েছিল। সেই সংস্কৃতি ছিল ভয়, দমন, গুম, বিচারহীনতা, দলীয়করণ এবং সীমাহীন দুর্নীতির সংস্কৃতি।
সম্প্রতি ইনডিয়ার আনন্দবাজারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ‘মাথা উচু করে’ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরবেন। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা যাবে না এবং তাদের ফিরে আসা ‘অনিবার্য’। এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক কৌশল বলছেন, কেউ আন্তর্জাতিক বার্তা, কেউ আবার ভারতীয় ভূরাজনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন।
কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হলো শেখ হাসিনার ফিরে আসা আদৌ সম্ভব কি?
রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কোনো শব্দ নেই, এই কথাটি প্রায়ই বলা হয়। কিন্তু ইতিহাস এটাও বলে, কিছু রাজনৈতিক অধ্যায় এমনভাবে শেষ হয়, যা আর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে না। বাংলাদেশের মানুষের বড় একটি অংশের কাছে শেখ হাসিনার শাসন এখন কেবল একটি সরকারের নাম নয়; এটি রাষ্ট্র দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গণতন্ত্র ধ্বংসের প্রতীক। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের ইলেকশন নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তা মানুষের রাজনৈতিক আস্থাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। বিরোধী দল দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ, গুমের সংস্কৃতি এসব বিষয় জনমনে স্থায়ী ক্ষোভ তৈরি করেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতির প্রশ্ন। গত দেড় দশকে বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে- এটা সত্য। কিন্তু একই সঙ্গে এই উন্নয়নের আড়ালে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর লুটপাটের অর্থনীতি। ব্যাংক খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়, সিন্ডিকেট অর্থনীতি, বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ- সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণা শক্তিশালী হয়েছে যে রাষ্ট্র আসলে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছিল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ক্ষোভ কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এক সময় আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন, এমন অনেক মানুষও এখন প্রকাশ্যে সেই সময়ের সমালোচনা করছেন। কারণ, ফ্যাসিবাদ যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন সেটি শেষ পর্যন্ত নিজের সমর্থকদেরও গ্রাস করে। দলীয়করণ এমন পর্যায়ে পৌছেছিল যে যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্য বড় হয়ে দাড়ায়। প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রও রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে শুরু করে। ফলে রাষ্ট্রের ভেতরে একটি গভীর অবক্ষয় তৈরি হয়।
এই বাস্তবতার মধ্যেই সাবেক পার্লামেন্ট মেম্বার গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, শেখ হাসিনার ফিরে আসার আলোচনা ‘নিছক কথার কথা নয়’। তার মতে, মানুষের মুখে মুখে যখন কোনো বিষয় ছড়ায়, তখন তার পেছনে রাজনৈতিক বাস্তবতা থাকতে পারে। তিনি ‘নিয়তি’ এবং ‘প্রকৃতির লীলাখেলা’র কথাও বলেছেন। অন্যদিকে সাবেক বিবিসি বাংলা প্রধান সুবির মোস্তফা মনে করেন, শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই কোনো রাজনৈতিক বার্তা বা ডিপ্লোম্যাটিক ইঙ্গিতের ভিত্তিতেই এমন আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য দিচ্ছেন।
কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রচারণা আর বাস্তব রাজনৈতিক সক্ষমতা এক বিষয় নয়। শেখ হাসিনা চাইলে প্রতিদিন সাক্ষাৎকার দিতে পারেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দিতে পারেন, সোশাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশের মানুষ কি তাকে আবার গ্রহণ করতে প্রস্তুত?
বাস্তবতা হলো, জনগণের একটি বড় অংশ এখন শেখ হাসিনার নাম শুনলেই ২০২৪ সালের রক্তাক্ত ঘটনার কথা মনে করে। ছাত্রদের মৃত্যু, দমন-পীড়ন, সহিংসতা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মম ব্যবহার মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। ইতিহাসে অনেক নেতা নির্বাসন থেকে ফিরেছেন, কিন্তু সবাই ফিরে এসে জনগণের সমর্থন পাননি। কারণ রাজনীতিতে স্মৃতি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের ক্ষোভ সময়ের সঙ্গে কমতে পারে, কিন্তু কিছু ঘটনার স্মৃতি রাজনৈতিক চরিত্রকে স্থায়ীভাবে বদলে দেয়।
এই কারণেই শেখ হাসিনার ফিরে আসার আলোচনা যতটা বাস্তব, তার চেয়ে বেশি মনস্তাত্ত্বিক ও প্রচারণামূলক। এটি মূলত একটি বার্তা- ‘আমরা এখনো শেষ হয়ে যাইনি।’ রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত শক্তিগুলো প্রায়ই এমন বার্তা দেয়, যাতে তাদের কর্মীরা মনোবল হারিয়ে না ফেলে। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটছে।
তবে এই আলোচনার আরেকটি বিপজ্জনক দিক রয়েছে। বর্তমান সরকারের ধীরগতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা যদি বাড়তে থাকে, তাহলে মানুষ অতীতকে তুলনামূলকভাবে ‘স্থিতিশীল’ সময় হিসেবে দেখতে শুরু করতে পারে। ইতিহাসে বহুবার এমন হয়েছে- একটি ব্যর্থতা পুরনো শাসনের প্রতি নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। মাহফুজ আলমের বক্তব্যের মূল সতর্কবার্তাও সম্ভবত এখানে। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যা মানুষের হতাশা, ভয় এবং বিভাজনের সুযোগ নেয়।
কিন্তু এখানেও বাস্তবতার একটি সীমা আছে। দীর্ঘ সময় পর কোনোভাবে আওয়ামী লীগ হয়তো সাংগঠনিকভাবে টিকে থাকতে পারে, কিন্তু শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে আর আগের রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরতে পারবেন এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। কারণ তার বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ নয়, নৈতিক ও আইনি অভিযোগও জমা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ভাবমূর্তির অবনতি তাকে আগের অবস্থানে ফিরতে দেবে না।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ শেখ হাসিনার শাসনকে উন্নয়নের চেয়ে নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি হিসেবে দেখছে। এই প্রজন্ম সামাজিক মাধ্যমে বেড়ে উঠেছে, বৈশ্বিক রাজনীতি দেখেছে, তথ্য প্রবাহের নতুন বাস্তবতা জানে। তাদের কাছে রাষ্ট্র মানে কেবল রাস্তা-সেতু নয়; বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং নাগরিক মর্যাদা। ফলে পুরনো ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি এখন আগের মতো সহজে গ্রহণযোগ্য নয়।
অবশ্য এটাও সত্য, ফ্যাসিবাদ কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। এটি নতুন রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করে। কখনো নিরাপত্তার নামে, কখনো উন্নয়নের নামে, কখনো স্থিতিশীলতার নামে। তাই শেখ হাসিনার ফিরে আসা অসম্ভব হলেও, তার তৈরি রাজনৈতিক সংস্কৃতি যদি টিকে থাকে, তাহলে বিপদ থেকেই যাবে।
বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যক্তি নির্ভর রাজনীতি থেকে প্রতিষ্ঠান নির্ভর রাজনীতিতে যাওয়া। আদালত, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যম, প্রশাসন সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ও কার্যকর করতে হবে। কারণ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।
ইতিহাসের চাকা আসলে কখনো পুরোপুরি পেছনে ঘোরে না। শেখ হাসিনার ফিরে আসার আলোচনা যতই হোক, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন অনেক বদলে গেছে। মানুষ ভয় পেতে পেতে ক্লান্ত। তারা এখন অন্তত বুঝতে শিখেছে যে উন্নয়নের নামে স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হলে সেই উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত টেকসই হয় না। তাই শেখ হাসিনার ফিরে আসার গল্প যতটা উচ্চকণ্ঠে বলা হচ্ছে, বাস্তবে তার রাজনৈতিক ভিত্তি ততটা শক্ত নয়। এটি মূলত একটি হারানো ক্ষমতার মনস্তাত্ত্বিক প্রতিধ্বনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত, সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক চাপে সাধারণ মানুষ এক ধরনের ক্লান্তির মধ্যে আছে। এই ক্লান্তিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা খুব সহজ। মানুষ যখন হতাশ হয়, তখন তারা অনেক সময় অতীতের দমনমূলক সময়কেও তুলনামূলক ‘শৃঙ্খলাপূর্ণ’ বলে ভাবতে শুরু করে। ইতিহাসের বহু ফ্যাসিস্ট শাসন এই মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে ব্যবহার করেছে। জার্মানিতে অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগে হিটলারের উত্থান যেমন ঘটেছিল, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দেখা গেছে- ব্যর্থ বা দুর্বল গণতন্ত্র অনেক সময় কর্তৃত্ববাদকে শক্তিশালী করে।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় ছিল ভয়ের সংস্কৃতি। এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল যেখানে মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে দ্বিধা বোধ করত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতার অনুগত বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও দলীয় আনুগত্য একটি বড় মাপকাঠি হয়ে দাড়ায়। ফলে রাষ্ট্রের ভেতরে একটি নীরব আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই ভয়ই শেষ পর্যন্ত বিস্ফোরণে রূপ নেয়। কারণ ইতিহাস বলে, মানুষ দীর্ঘদিন নীরব থাকতে পারে, কিন্তু চিরকাল নয়।
আসলে শেখ হাসিনার ফিরে আসার আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি অনুপস্থিত, সেটি হলো আত্মসমালোচনা। তার বক্তব্যে এখনো সেই পুরনো আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু অনুশোচনা নেই। তিনি এখনো নিজের শাসনের ব্যর্থতা, দমননীতি বা জনগণের ক্ষোভের কারণ নিয়ে স্পষ্ট কোনো আত্মসমালোচনা করেননি। ইতিহাসে যেসব নেতা পতনের পর ফিরে এসেছেন, তাদের অনেকেই অন্তত রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে নতুন ভাষায় কথা বলেছেন। কিন্তু শেখ হাসিনার বক্তব্যে এখনো সেই পুরনো ক্ষমতার ভাষাই বেশি স্পষ্ট। ফলে তার বার্তা অনেকের কাছে বাস্তবতার চেয়ে বিচ্ছিন্ন বলেই মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষ হয়তো ভুল করতে পারে, হতাশ হতে পারে, নতুন সরকারের ওপর ক্ষুব্ধও হতে পারে। কিন্তু তারা একবার যে বাস্তবতা দেখেছে, সেটি এত সহজে ভুলে যাবে না। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পতনের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল ভয়ের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষের বিস্ফোরণ। সেই বিস্ফোরণের স্মৃতি এখনো জীবন্ত। আর সেই কারণেই শেখ হাসিনার ফিরে আসার আলোচনা যতই হোক, বাস্তবতা হলো- ইতিহাসের কিছু দরজা একবার বন্ধ হয়ে গেলে, তা আর আগের মতো খুলে না।
রাজু আলীম : কবি, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব