শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির পুনরুত্থান নিয়ে যারা আশাবাদী তাদের নিরাশ করবে এ লেখা। স্বপ্ন নিয়ে বাঁচা ভালো। স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। প্রকৃতই যারা আওয়ামী লীগকে ভালবাসে তাদের বাঁচতে হলে তো হাসিনার দেশে ফেরা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির পূর্ণবাসনের স্বপ্নতো তাদের দেখতেই হবে। এতে আমি দোষের কিছু দেখি না। কিন্তু এ স্বপ্ন স্বপ্নদোষে ঘুম ভাঙ্গার মত অভিজ্ঞতা দিবে তাদের। কেন? বলি, যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট নৃসংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাকশালী সরকারের নেতৃত্বের পরিবর্তন অথবা ২০০১ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিচারপতি লতিফুর রহমানের কাছে শেখ হাসিনার ক্ষমতা হস্তান্তরের সাথে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ৫ আগস্টকে মেলাচ্ছেন তারা মুলত বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির ঐ দুটি ঘটনার প্রথমটি অসাংবিধানিক এবং দ্বিতীয়টি সাংবিধানিক উপায়ের ঘটেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪ এ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ঘটেছে গণঅভুত্থানের মাধ্যমে। ব্যাপক গণ অসন্তোষে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। ইতোমধ্যে দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে এয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। হাসিনা পালানোর পর ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তবর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সকল প্রকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বেশ ভালোভাবেই দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট প্রদানের হারছিল ৫৯.৪৪%। ভোটে জনগণের অংশগ্রহণের হারই বলে দেয় কতটা অংশগ্রহণমূলক ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। ৫ আগষ্ট ২৪ পরবর্তী আওয়ামী লীগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়া তেমন করে তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে পারেনি। শেখ হাসিনার নিয়োগকৃত সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান এবং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন এখনো স্বপদে বহাল আছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের পর নির্বাচিত বিএনপি সরকার এখনো তাদের পদচ্যূতির জন্য তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এরকম পরিস্থিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে যা পুরো মাত্রায় হাস্যকর। গুম, খুন, ক্রসফায়ার, মামলা, হামলা, দখলবাজিতে পূর্ণ ছিল শেখ হাসিনার শাসনামল। বিরোধীমত দমনে এতটা ভয়াব হশাসক এ অঞ্চলের মানুষ বিগত হাজার বছরেও দেখেনি। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ছিল বিগত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ স্বৈরাচার। বৃটিশ উপনিবেশিক সরকার, পাকিস্তানী আইয়ূর-ইয়াহিয়ার স্বৈরশাসন বা এরশাদের স্বৈরসরকারকে হার মানিয়েছিল হাসিনা। এ ভূখন্ডে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরা কখনোই সহজতর ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঘটেনি কখনো।
১৯৭১ সালের ১৭ই মার্চ রেসকোর্স ঐতিহাসিক ভাষনে শেখ মুজিব তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট মুজিববধের পর শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে সময় লেগেছে ৬ বছর। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে তিনি দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করে। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যেতে সময় লেগেছে ১৫ বছর। স্বৈরাচার এরশাদের রাজনীতির সাথে আপোষ ও ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ভুল রাজনীতি শেখ হাসিনার ক্ষমতায় যাওয়াকে দীর্ঘায়িত করে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন এর নেতৃত্বে গঠিত নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধাক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে।
সে নির্বাচন পরবর্তী হাসিনার নেতৃত্ব আওয়ামী লীগে চ্যালেজ্ঞের মুখোমুখি হয় বলে বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জেনেছি। নির্বাচনকে “সূক্ষ্ম কারচুপি নির্বাচন” বললে রাজনীতিতে হাসিনার নেতৃত্ব হাস্যকর হয়ে ওঠে।
তারপর রাজাকার গোলাম আজম এর বিচারের দাবীতে গণ আদালত নামীয় আন্দোলনের সাথে আওয়ামী লীগের যুক্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে সে আন্দোলন ধামাচাপা দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী ও সদ্য ক্ষমতাচ্যুত গণধিকৃত এরশাদের জাতীয় পার্টিকে সঙ্গীকরে ‘নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার’আন্দোলন গড়ে তোলে হাসিনা। সে আন্দোলন কিছুটা পানি পেয়ে ১২ জুন ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়। ৩০মার্চ ১৯৯৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী দেশে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে অস্থির করতে হাসিনা সেনাবাহিনীকে দিয়ে ষড়য়ন্ত্র করে।
তৎকালীন সেনাপ্রধান নাসিমের ক্যু করার কু-চিন্তা ও কু-কাজের কথা যারা রাজনীতির খোঁজখবর রাখেন তারা সবাই জানেন।
১২ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হাসিনা বিজয়ী হলেও দেশে সর্বকালের সর্ববৃহৎ বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়।
টানা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০০১ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ১ লা অক্টোবর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় ঐক্যজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। দ্বিতীয় দফায় হাসিনার ক্ষমতা পেতে ১/১১’র দাওয়াই ও তরিকার প্রয়োজন হয়। ২০০৮ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাইক্রোস্কপিক অনুসন্ধান করলে তা দিনের আলোর মত স্পষ্ট হবে। তৎকালীন নির্বাচন কমিশন বিএনপি ভাঙ্গার যে দায়িত্ব পালন করেছিল তা আমরা সবাই জানি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণাকারী মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার মূলত বিএনপিকে হেয় ও রাজনৈতিকভাবে দূর্বল করতে টানা দু’বছর ক্ষতায় থাকে। কাজেই আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগনের সমর্থনের চেয়ে ভারতীয় সমর্থন, সহযোগিতা ও কৌশল বেশি প্রয়োজন হয় তা আমরা বেশ বুঝতে পারি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানি ভাবধারার জামায়াত যত বেশী লেজিটিমাইজ হবে আধিপত্যবাদের দোসর দিল্লীর দাস আওয়ামী লীগের রাজনীতির লেজিটিমেসির দাবী আরও অধিক শক্তপোক্ত হবে। ’২৪ দিয়ে’ ৭১ কে আড়াল করার জামায়াতী কৌশল ধোপে টিকবে না। সেই কৌশল যে কতটা অমুলকতা ১২ ফেব্রুয়ারি'২৬ এর নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ প্রমান করেছেন। ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভুমিকা নর্মালাইজ করা হলে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পূর্ব আওয়ামী লীগের ভূমিকা নর্মালাইজ করার প্রবণতাও প্রকট হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গোলাম আজমকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জামায়াতী প্রবণ তা হাসিনার রাজনীতিকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার পথেকে যে সুগম করবে তা চরম বোকারাও ভালভাবে বুঝতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ গোলাম আজমকে যেমন গ্রহণ করেনি হাসিনাকেও একই কারণে আর গ্রহণ করবে না। এটি হাসিনা অনুসারীরা যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করবে এ দেশে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির গতি প্রবাহ তত গতি পাবে।
জামায়াত স্বাধীনতা যুদ্ধকে দেখে ভারতীয় ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসনের নীল নঁকশা হিসেবে আর আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধকে দেখে ভারতীয় সহযোগিতায় মুজিব বাহিনীর লড়াই হিসেবে। অন্যদিকে বিএনপি স্বাধীনতা যুদ্ধকে দেখে জনযুদ্ধ হিসেবে। দেশপ্রেমিক বাঙালী সামরিক অফিসার ও সৈনিক বিদ্রোহ, প্যারামিলিশিয়া বাহিনীর গণ প্রতিরোধ ও ছাত্র-জনতার লড়াই সংগ্রাম হিসেবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পশ্চিম পাকিস্তানের চাপিয়ে দেয়া নিরীহ ও নিরস্ত্র পূর্ববঙ্গবাসীর উপর একতরফা আক্রমণে আওয়ামী লীগ সহ সকল রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক বাংলাভাষী অফিসার ও সৈনিকরা বিদ্রোহকরে।
জিয়ার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষিত হয় সাড়ে সাত কোটি বাংলাভাসী পূর্ববঙ্গের মানুষের বহুল আরাধ্য অমীয় বাণী মহান 'স্বাধীনতার ঘোষণা'। শুরুহয় 'সশস্ত্র' স্বাধীনতাযুদ্ধ। সে রাতে শেখ মুজিব ধানমণ্ডির নিজবাড়ী থেকে গ্রেফতার হন। আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা ইন্ডিয়ায় পালিয়ে মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে। এপ্রিলের মাঝামাঝি তাজউদ্দিন আহমদের দূরদর্শিতায় গঠিত হয় 'মুজিব নগর সরকার'।
রাজনীতিক নেতৃত্বে বাংলাদেশের যুদ্ধকালীন সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র কার্যকর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বব্যাপী কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়। ইন্দিরা গান্ধীর সরকার কৌশলগত কারণে মানবিক সহযোগীতার হাত প্রসারিত করে। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সূর্য পূর্ব বাংলার পূর্বাকাশে উদিত হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে।মহানস্বাধীনতাযুদ্ধনিয়ে এ বয়ানইসাদাসিধা, নৈর্ব্যক্তিক, আবেগবর্জিত ও দলনিরপেক্ষ।
ব্যক্তি, দল,সরকার ও রাষ্ট্র মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ফ্যাসিজমে। হাসিনা ও তারদল আওয়ামী লীগ ভোটারবিহীন নির্বাচন বা রাতের ভোটের নির্বাচন কিম্বা আমি-ডামির ভোট ভোট খেলার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকার গঠন করে বিগত বছরগুলোতে দেশটাতে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। আমাদের রক্তে কেনা দেশটাকে হাসিনা দিল্লীর দাস বানিয়ে ছিল কেবল নিজের গদিতে বসা ও গদি সুরক্ষার বিনিময়ে। দল কানা আওয়ামী লীগারা তা স্বীকার না করলেও বাংলাদেশ ও বিশ্বের মানুষ ভালভাবেই জানেন।
আমরা যারা গত শতকের ৮০'র দশকের শেষ ভাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে নাম লিখিয়েছিলাম সেই আমরা মিছিলে শ্লোগান দিতাম, "সিকিম নয় ভুটান নয় এদেশ আমার বাংলাদেশ।" আমরা শ্লোগান দিতাম," রুশ ভারত মার্কিন, ফুরিয়ে গেছে তোদের দিন।" আমরা বক্তৃতায় বলতাম, "পিণ্ডির জিঞ্জর ছিন্ন করেছি দিল্লীর দাসত্ব করবার জন্য নয়।" ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ প্রকৃত সার্বভৌমত্বের স্বাদ পায় ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতির দিনে।
সিপাহী জনতার সেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই এদেশের রাজনীতিতে জিয়ার আবির্ভাব ঘটে। প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও সার্বভৌম এবং মর্যাদাশীল একটি রাষ্ট্রগঠনে জিয়া কর্ম তৎপর হয়ে ওঠেন।
তারপরের ইতিহাস আমরা কমবেশী সবাই জানি। দিল্লী ওয়ালারা পাকিস্তানের পিণ্ডি চটকালে ও ইন্ডিয়ার ব্যাপারে বিনয়ের অবতার। একেবারে গদগদ। পাতিলে ভাত ফ্যান উতলানো মাথা নুইয়ে পরে তাদের। দিল্লীর পদতলে মাথা ও পাছা পেতে দেয় তারা। মেরুদণ্ড ধনুক বাঁকা হয় তাদের। এই যাদের অবস্থা তারা ইদানীং মার্কিনীদের বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার। গোপন চুক্তি, দেশ বিক্রি ইত্যাদি ধুয়া তোলা কলরবে মত্ত বেশ। তাদের ভাষায় 'ইউনুচ্চা'র বিরুদ্ধে আঙ্গুল উচানো প্রতিবাদে সোসাল মিডিয়া সয়লাব এখন। যারাসার্বভৌমত্ব ও জাতীয়স্বার্থবিকিয়েদিয়ে ১৫ বছরের ও অধিকাল গদিতে বসে মজা মারলো তারাআজ আমেরিকার সাথে গোলামীর চুক্তি নিয়ে বেশ সরব। এটা ভালো। জাতীয়তাবাদী চেতনা পিণ্ডি,দিল্লী ও ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে জারি থাকুক জাতীয় স্বার্থের পক্ষে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পতিত ও গণধিকৃতদল কখনো আর দ্বিতীয়বার এককভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি। অন্যদলের সাথে জোট করে বড়জোড় তারা ক্ষমতার কিছুটা সুরুয়া পেয়েছে মাত্র। জামায়াত, জাতীয় পার্টিকে যেভাবে ক্ষমতার সুরা পান করতে দেখেছি, ভবিষ্যতে হয়তোবা আওয়ামী লীগকেও সেভাবে ক্ষমতায় দেখলেও দেখতে পারি। কিন্ত তার আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আইনসিদ্ধ হতে হবে এবং হাসিনার নেতৃ্ত্বকে অস্বীকার করতে হবে তা বোধ করি আওয়ামী লীগ সহসাই করবে না। অতএবআমরানির্দিধায়বলতেপারি যে হাসিনার দেশে ফেরা সম্ভব নয়। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সেই দুঃসাহস কী হাসিনার আছে?১৯৯০ পরবর্তী এরশাদের জাতীয় পার্টির জন্য কিম্বা ১৯৭১ পরবর্তী গোলাম আযমের জামায়াতের রাজনীতির জন্য যে সিদ্ধান্ত এদেশের রাজনীতিবিদরা নিয়েছিলেন ২৪ এ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে নিশ্চয় সে মত সিদ্ধান্ত নিবেন না। চব্বিশেরর 'জুলাই' আমাদের একাত্তর, সাত নভেম্বর পঁচাত্তর ও নব্বই এর ব্যর্থতা শুধরে নেয়ার সোপান।
লেখক:
জাহেদুল আলম হিটো
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিককর্মী