সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের ও সৈয়দপুর শাহাড়পারা ইউনিয়নের শ্রীরামসী-নয়াবন্দর সড়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে তৈরি হচ্ছে কাদা, পানি জমে থাকছে বড় বড় গর্তে। ফলে প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এ রাস্তা দিয়ে শ্রীরামসী বাজার শাহ দামড়ী বাজারের একমাত্র সড়ক এছাড়া এই সড়ক দিয়ে শ্রীরামসী উচ্চ বিদ্যালয়, পীরেরগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ আশে পাশের কয়েকটি বিদ্যালয়ের শতাদিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। বর্তমান সময়ে কোথাও কোথাও ইট ও মাটির স্তর উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছে। পথচারীদের পা পিছলে যাওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা।
স্থানীয় বাসিন্দা তাহমিদ মিয়া সহ আরো অনেকেই জানান, এই সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কৃষক, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুম এলেই রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয়। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর ধরে এই সড়কে কোন কাজ হয় নাই। বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটির এই বেহাল দশা চললেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে সামান্য মেরামত করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। রাস্তায় জমে থাকা পানি ও কাদার কারণে শিশু, বয়স্ক ও নারীদের চলাচলে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া কাদামাটির কারণে যানবাহনের চাকা আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অস্থায়ী সংস্কার নয়, দ্রুত পরিকল্পিতভাবে রাস্তার স্থায়ী উন্নয়ন কাজ করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনসাধারণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে এবং একটি নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী সড়ক উপহার দেবে।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, এ রাস্তার আগের একটা টিকাদার কাজ করেছিল। এই টিকাদার কাজ ফেলে যায়। তার উপর জরিমানা হয়েছিল। এর সাথে আপনি যে সড়কে কথা বলছেন সেটা আমরা এবার জুলাই মাসে রাস্তা সংস্কারের জন্য আবেদন করবো। আশা করি আমাদের এমপি সাবের সহযোগিতায় এই রাস্তা গুলো সংস্কার করতে পারবো।