সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে নজরুল ইসলাম নামে স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঘরসহ সরকারি জায়গা অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার সংবাদ ২৩ জুন দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সহকারি কমিশনার (ভুমি) সঞ্জয় ঘোষ এ বিষয়টি তদন্ত করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সহকারী ভুমি কর্তকর্তা ও উপজেলা ভুমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী ২৬ জুন সহকারী কমিশনার (ভুমি) কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মাটিকাটা নতুনবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের বহুল আলোচিত স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও সাবেক ডিআইজি আব্দুল বাথেনের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
তখন তিনি প্রভাব কাটিয়ে বাদশাগঞ্জ বাজারে প্রায় ৪ শতক সরকারি জায়গা জোরপূর্বক দখল করে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেন এবং সেটি দোকান হিসেবে ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি সুচতুর প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম তার দখলে থাকা উক্ত সরকারি জায়গাসহ ঘরটি গোপনে একই ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বাদশাগঞ্জ বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. টুটন মিয়ার নিকট সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে।
এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই বাদশা বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে।
উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও বাদশাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ি আহম্মদ আলী বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে প্রভাব কাটিয়ে বাদশাগঞ্জ বাজারে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে ঘর নির্মাণ করে একটি চক্র। আর ওইসব জায়গা এখন গোপনে লক্ষ-লক্ষ টাকায় বিক্রিও করে দিচ্ছে তারা। বিষয়টি সত্যি খুবই দুঃখজনক।
তবে বর্তমানে বাদশাগঞ্জ বাজারে ঘটে যাওয়া এসব অবৈধ কর্মকা বন্ধে প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে অবৈধ দখলদার প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি জায়গা বিক্রি করার কোনো নিয়ম নেই। তবে আমি টুটন মিয়ার কাছে ওই জায়গায় থাকা আমার ঘরের শুধু পজিশনটুকু সাড়ে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। আপনার নাম ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের তালিকায় রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কোনো ওয়ার্ড আওয়ামীগীর সদস্য নই। কমিটিতে যার নাম রয়েছে- সেটি হয়তো অন্য কোনো নজরুল ইসলাম হবে।
প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের কাছ থেকে সরকারি জায়গাসহ ঘর কিনার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বাদশাগঞ্জ বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো.টুটন মিয়া বলেন, নগদ সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে আমি ওই ঘরটি কিনে সেটির দখল বুঝে নিয়েছি।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভুমি) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এ বিষয়ে যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের নজরে আসার পরই বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে আগামী ২৬ ইং তারিখে মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সহকারী ভুমি কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।