ঢাকা | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফলোআপ

খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অনুপস্থিতি ও অনিয়ম ঘিরে তোলপাড়

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫০
ad003
নেত্রকোণার কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলায় ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির চাল ও আটা বিতরণে প্রায় ১৪ লাখ টাকার অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইমরান হোসেন অধিকাংশ সময় ঢাকার সাভারে নিজ বাসায় অবস্থান করেন এবং মাঝে মধ্যে অস্থায়ীভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত হন। ফলে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা তৈরি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে দুই উপজেলায় সরকার নির্ধারিত ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন দুই টন চাল ও দুই টন আটা ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর ছাড়া গুদাম থেকে খাদ্যশস্য উত্তোলন করা সম্ভব নয়।

স্থানীয় সূত্র ও দপ্তর সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির দাবি, গত ২৩ মে অফিস শেষে ঢাকায় চলে যান ওই কর্মকর্তা। এরপর ঈদের ছুটির আগেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করে পরবর্তীতে ৭ জুন অফিসে ফেরেন। এ সময়সীমায় মোট সাত কার্যদিবসে দুই উপজেলায় ওএমএসের প্রায় ১৪ টন চাল ও ১৪ টন আটা বিতরণের কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে বিতরণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারমূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টাকা।

অভিযোগ আরও রয়েছে, ওই সময়ে ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) ও গুদাম থেকে খাদ্যশস্য উত্তোলন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর ও অনুমোদন নিয়ে অনিয়ম হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ব্যাকডেটে কাগজপত্র সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইমরান হোসেন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, “আসেন, সামনাসামনি কথা বলব।”

তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি অনুপস্থিত থাকাকালে ডিওতে কার স্বাক্ষরে খাদ্যশস্য উত্তোলন হয়েছে এবং বিতরণ কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওএমএস কর্মসূচির চাল ও আটা অনেক সময় নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায় না। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন দেখিয়ে খাদ্যশস্য উত্তোলনের পরিমাণ ও বিতরণ নিয়ে অসংগতি তৈরি হয়।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, এখন পর্যন্ত এ ধরনের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মন্তব্য দিতে পারেননি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকেও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরে কথা বলার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে এড়িয়ে যান বিষয়টি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ওএমএস কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সকল নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT