আজ ২৫ জুন দেশের বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা, ক্রীড়ানুরাগী ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমদের ১১ তম প্রয়াণবার্ষিকী। ২০১৫ সালের এই দিনে তিনি অনন্তলোকে পাড়ি দেন। তাকে নিয়ে ব্যক্তিগতস্মৃতিচারণ করেছেনডা. আতাউর রহমান।
১.
গমগমে সেই চেনা স্বর। কিছুটা দূর থেকেও শোনা যেত। অমন জলদগম্ভীরকণ্ঠ বাঙালি চরিত্রে দুর্লভ। তাই বুঝতে কখনোই বেগ পেতে হতো না কে কথা বলছে। কোয়ান্টাম শান্তিনগর কার্যালয়ে নিজের ডেস্কে বসে তার কণ্ঠ শুনতে পেলেই আমি উৎকর্ণ হয়ে উঠতাম।
কারণটা একান্তই ব্যক্তিগত।
তিনি আসতেন মাসে একবার কি বড়জোরদু-বার। এবং সন্ধ্যার পর। আর তিনি এসেছেন মানেই সাথে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আনন্দ বেকারির কয়টা প্যাকেট তার সাথে অফিসে নিশ্চিত ঢুকে পড়েছে। কেক, লাড্ডু, প্যাটিস নয়তো তেমন উপাদেয় কিছু ওতে আছেই।
দেড়যুগ আগের কথা বলছি। আশৈশব স্বগৃহে চর্ব চোষ্য লেহ্য পেয় খেয়ে আমি তখন হঠাৎ এসে পড়েছি এই অনাত্মীয় ঢাকা শহরে। মায়ের সুখাদ্যস্বর্গ থেকে আচমকা পতন এবং কবি সুকুমার বড়ুয়ার সেই মেহমানের মতো সে-সময় আমার নিত্যখাদ্য‘রেশনের পচা চাল টলটলে বাসি ডাল’না হলেও মোটামুটি কাছাকাছি পর্যায়ের। অতএব, সেই গমগমে কণ্ঠ আমাকে সচকিত করবে না তো কী!ভাবতাম, আরো ঘন ঘন আসেন না কেন ভদ্রলোক?
আর এ ব্যাপারে তার রুচি-পছন্দের মানও ছিল উঁচুদরের। তাতে বাড়তি স্বাদ যোগ করত তার ভালোবাসা।
বড় মনের মানুষ বা উদারহৃদয় মহৎপ্রাণ ইত্যাদি বোঝাতে ফার্সি ভাষায় একটা শব্দ আছে। দরাজদিল। কেউ-বা বলেন দিলদরাজ। তার মতো মানুষদের একবাক্যে পরিচয় দিতে গিয়ে বাঙালি বহু বছর ধরেই ওটা নিজেদের অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। প্রথম যেদিন তাকে দেখেছি কিংবা এখনও তার কথা মনে হলে এই শব্দটাই প্রথম মনে আসেআমার।
কোথাও তিনি আছেন বা উপস্থিত হয়েছেন মানে ওখানে একটা কিছু হচ্ছে। বিমর্ষ বেকার হয়ে বসে থাকার উপায় নেই কারো।হাসি-গল্পযোগে নির্মল আনন্দ আর সাথে মুখরোচক খানাপিনার আয়োজন ইত্যাদি মিলিয়ে বেশ একটা ‘মেজাজি ব্যাপার’ যাকে বলে।
তিনি কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমদ। বহু বিচিত্র পরিচয় তার। সে-সব আনুষ্ঠানিক আলাপ আর পোশাকি পরিচয় নিয়ে কথা বলার লোকও আছেন বহু। আজ না হয় পেছন ফিরে কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করা যাক।
২.
চারপাশের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে একটা আনন্দ-হুল্লোড়ের মধ্যে থাকা ছিল তার একটা বিশেষ চরিত্রবৈশিষ্ট্য। শেষদিকে বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতার দরুন কিছুটা শ্লথগতি হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনোদিন এর ব্যত্যয় ঘটতে দেখি নি। আসর মাতিয়ে রাখতেন মোটামুটি একাই। এ গল্প থেকে সে গল্প আরএকটু পর পর উচ্ছল হাসি। এমন হাসতে পারা লোক খুব একটা দেখা যায় না।
কেমন জমিয়ে রাখতে পারতেন নিজের চারপাশ, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেলাম সেবার লামায়।
২০০২ সাল। বান্দরবান লামার কোয়ান্টাম সেন্টারে (‘কোয়ান্টামম’ নামকরণ বহু পরের কথা) পয়লা ধ্যান-উৎসব। মনে আছে চট্টগ্রাম থেকে সাজ্জাদ ভাইয়ের (এস এম সাজ্জাদ হোসেন, তৎকালে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের মূল দায়িত্বশীল, বর্তমানে মোমেন্টিয়ার) নেতৃত্বেআমরা গেলাম ১৫ জন। আমি সর্বকনিষ্ঠ সদস্য।
কিন্তু ওখানে পূর্বনির্ধারিত এতসব উৎসব-আয়োজনের কথা কিছুই আমরা তখনও জানি না। লামায় তিন দিনের বিশেষ চিল্লা (আজকের কোয়ান্টায়ন) হবে জেনে সিরিয়াস ভঙ্গিতে আমরা রওনা করেছি ঈদুল আজহার পরের দিনখুব ভোরে। সময়টা ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ যতদূর মনে পড়ে।
সেন্টারে পৌঁছে দেখি চারপাশ লোকে লোকারণ্য। কোথায় সেই আগে দেখা জনাকীর্ণ ভাবগম্ভীর পরিবেশ, কোথায় কী। যেদিকে তাকাই অচেনা, আধাচেনা, অপরিচিত লোকজন—সবাই ঢাকার বিভিন্ন শাখা-সেলের কোয়ান্টাম সদস্য। দশ-বারোজন মুখচেনা, তার বাদে কাউকেই চিনি না।শ-খানেক লোক, ঢাকা থেকে দুই বাস এসেছে বলে শোনা গেলো!
(আশ্চর্য হওয়ারই কথা, কারণ এত লোক তো দূরের কথা,এর অর্ধেক লোকও ইতোপূর্বে একসাথে ওখানে যায় নি। সেবারই প্রথম। এবং এতজন নাগরিক নারী-পুরুষকে ‘নিরাপত্তা’ দিতে পার্শ্ববর্তী কেয়াজুপাড়া থানা জনাচারেক পুলিশও পাঠিয়েছিল! তখন এদিকে সালাম তোরণ আর ওদিকে আজকের পূর্বাণ আবাসন পর্যন্তই ছিল সাকুল্যে কোয়ান্টাম সেন্টারের সীমানা।)
যা হোক, আমার এমনই উসখুস লাগতে শুরু করল যে, মাথা ঘুরছে সাথে পেটও মোচড় দিতে শুরু করেছে। বেকায়দা দশা। সিদ্ধান্ত নিলাম পালাবো। এখনই। সাজ্জাদভাইয়ের শরণ নিলাম। কিন্তু ভদ্রলোক সান্ত্বনা বা সমবেদনা জানাবেন কী,তার ভুবনখ্যাত মিষ্টি হাসিটা দিয়ে বললেন, আচ্ছা দুপুর পর্যন্ত থাকেন, চট্টগ্রাম যাওয়ার মতো কাউকে পেলে আপনাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।
দলবেঁধে পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে হাঁটা, ঝর্নায় গোসল, হৈ-হল্লা, সেদিনই জবাইকৃত গরুর মাংস দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ—কিছুই আমাকে আকর্ষণ করে না, আমি অপেক্ষায় আছি কবে ফেরার পথ ধরব।
দুপুর গড়াচ্ছে, সাজ্জাদ ভাইয়ের কোনো উল্লেখযোগ্য হেলদোল দেখি না, আবার ধরলাম তাকে—চট্টগ্রাম চলে যাবো। তিনি বললেন, কাউকে তো পাওয়া গেলো না (এখন বুঝি পাওয়ার কোনো চেষ্টাই তিনি সেদিন করেন নি!), এখন আর কীভাবে যাবেন, এক কাজ করেন, আজ রাতটা থেকে যান, কাল ভোরেই চলে যাবেন।
রাজি না হয়ে আমার উপায়ও ছিল না কোনো, কারণ চট্টগ্রাম শহর থেকে সেন্টারে যাওয়া-আসা তখন সবমিলিয়ে একটা ব্যাপার বটে, মন চাইল আর যখন-তখন চলে গেলাম—তেমনটা নয়।
বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হলো। ধ্যানযাত্রীরা চাদর পেতে বসলেন এখনকার রাহমাতান বাংলো সংলগ্ন খোলা প্রান্তরে। মনে পড়েছে! দিনটা ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি, রাতটা ছিল পূর্ণিমার।
কেন বসে আছি জানি না। কী হতে যাচ্ছে তা-ও জানি না। গুরুজী শহীদ আল বোখারী মহাজাতক আসবেন? মেডিটেশন বা তেমন কোনো প্রোগ্রাম হবে?
আচমকা সামনে উদয় হলো একটা মুখোশ পরা লোক। সেই চেনা কণ্ঠ। দু-পাশেরপাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে আরো গমগম করছে। ঢাকাইয়া ভাষায় কার সাথে যেন মজার কিছু বাৎচিত করলেন। মিনিট পাঁচেক এটা সেটা বললেন। সবার সাথে সাথে আমিও এমন আমোদ পেলাম যে, সারা দিনে সেই প্রথমবার কিছুটা স্বাভাবিক (এবং সুস্থ) বোধ করলাম আর প্রচুর হাসলাম। সেই হাসিতে কোথায় ভেসে গেলো আমার পালানোর চিন্তা!
পরে তারই নেতৃত্বে ঘণ্টাখানেক একটা অনুষ্ঠানের মতো হলো। কেউ গান করল, কেউ-বা আবৃত্তি। কার কাছে যেন শুনলাম, সেই সন্ধ্যায় গোটা ব্যাপারটাই হয়েছে তারই উদ্যোগে।
ভাগ্যিস থেকে গেছিলাম। যা প্রত্যাশা করে সেবার লামা গিয়েছিলাম, তিনদিনে পেয়েছি তার ঢের বেশি। সে-সব অন্য কোথাও বলা যাবে অন্য কোনোদিন।
এই ছিলেন কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমদ। ঝিঁ ঝিঁ ডাকা সেই অন্ধকার পাহাড়চূড়ায় শ-খানেক মানুষকে তিনি যেভাবে হাসিয়ে-মাতিয়ে আনন্দস্নাত করে তুললেন, ওখানে যারা ছিলেন না সেদিন—তারা ব্যাপারটা ঠিক বুঝবেন না।
৩.
লোকটা বিনয়ী ছিল। আর নিরহংকারী।
সহজাত বিনয় বোঝা যায় জটিল নয়তো অপ্রস্তুত মুহূর্তে একটা লোক কীভাবে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তা দেখে। কাজী মাহতাবকে যেদিন আমি প্রথম দেখি সেদিনই তিনি ওরকম একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। চট্টগ্রামে। এবং আমারই কারণে!
ঘটনাটা বলছি—
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সেবা কার্যক্রমের সংখ্যা বর্তমানে তিন ডজনেরও বেশি। কিন্তু শুরুটা হয়েছিল একেবারেই সাধারণ একটা সেবা-উদ্যোগের মধ্য দিয়ে—তৃষিত পথিকের পিপাসা মেটাতে বিশুদ্ধ সুপেয় পানির ব্যবস্থা। জনবহুল পথের মোড়ে বড় একটা পানির ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে, তাতে চেইন দিয়ে বাঁধা থাকত একখানা মগ। পথক্লান্ত যে-কেউ দরকারমতো পানি পান করতে পারতেন।
চট্টগ্রামের কোয়ান্টাম সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিলেন রাজধানী ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও এটা করা হবে। সালটা ১৯৯৯ কি ২০০০, এখন মনে করতে পারছি না।
কাজী মাহতাবকে চট্টগ্রামে আমন্ত্রণ জানানো হলো এক শুক্রবারে। ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সাপ্তাহিক যৌথ মেডিটেশন কার্যক্রমে (শুরুতে আর শেষে দুটো মেডিটেশন আর মাঝখানে একটা আলোচনা আর সদ্যযুক্ত কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েটদের অনুভূতি বর্ণনা নিয়ে দু-ঘণ্টার আয়োজন, কালক্রমে এটাই আজকের সাদাকায়ন) তিনিই মূল আলোচক, তারপর চট্টগ্রাম নগরে প্রথম পানির ট্যাঙ্কটি তিনি উদ্বোধন করবেন।
সেন্টারের অনুষ্ঠান শেষে সবাই রওনা করেছে নির্ধারিত স্থানে, যেখানে ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় কোয়ান্টাম স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে প্রধান অতিথি দাঁড়িয়েছেন, মগে পানি ঢাললেন, পান করতে শুরু করেছেন, কিন্তু ... ক্যামেরাম্যান ছবি তোলে না কেন? সবার দৃষ্টি ক্যামেরাম্যানের দিকে।
এবং সেই গর্বিত আলোকচিত্রীটি ছিলাম আমি!
কী কারণে জানি না, আমার মধ্যে দৈবযোগে কী প্রতিভা দেখে সাজ্জাদ ভাই প্রকাণ্ড একটা ক্যামেরা সেদিন সকালে হাতে তুলে দিয়ে আমাকে ছবি ওঠানোর দায়িত্ব অর্পণ করলেন, তা-ও এক রহস্য। এদিকে আমি সকাল থেকেই বিস্তর প্র্যাকটিস করে যাচ্ছি, সামনে যাকে পাচ্ছি ফটাফট তার ছবি তুলছি (যদিও তখন সেই ‘রিল’-এর যুগ)।
দিনভর প্র্যাকটিস তো করেছি প্রচুর, কিন্তু জায়গামতো ছবি তো ওঠে না! ক্যামেরাটা বেমক্কা বিগড়ে গেছে আমারই কোনো একটা ভুলে।
ক্যামেরা এদিক ঘোরাই, ওদিকে চাপড় দেই, কিছুক্ষণ ঝাঁকাই; ওদিকে ছবির জন্য পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন চট্টগ্রামের যেসব ভাই-আপা আঙ্কেল-আন্টি, তারাও আমার এহেন অপটুতায় বিরক্ত হয়ে মনে মনে আমাকে ঝাঁকি-চাপড় দেন তা বুঝতে পারি। কিন্তু না, কিছুতেই কিছু হয় না! কয়েকজন তো কটমট করে তাকাতে শুরু করেছেন। ওদের দেখে মধ্যদুপুরে ঘামতে ঘামতে আমি আরো কী যেন গুবলেট করে বসি।
এরই মধ্যে অতিথি মহোদয়ের দিকে চোখ পড়ে আমার। এক চিলতে কৌতুকের হাসি নিয়ে বেশ একটা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। মনে হলো যেন মজাই পাচ্ছেন খানিকটা।
ভিন্ন শহরেরআনুষ্ঠানিক পরিবেশে সৌজন্যের খাতিরে মুখে না হয় কিছু বলেন নি সেদিন, কিন্তু মনে মনে একটু বিরক্ত হওয়া তো অস্বাভাবিক ছিল না। অথচ তার লেশমাত্র ছিল না তার অভিব্যক্তিতে। পরে তার সাথে আলাপ-পরিচয়ে কিছুটা সহজ হয়ে ওঠার বহুবার ভেবেছি, সেদিনকারকথাটা তাকে বলে ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতাটুকু জানাবো। বলা হয় নি আর।
(ছবি শেষপর্যন্ত উঠেছিল অবশ্য। প্রমাণ আছে।)
৪.
নিজের সব ভারী ভারী পরিচয়গুলো একপাশে সরিয়ে রেখে খুব সহজে মিশতে পারতেন তিনি যে-কারো সঙ্গে। অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে আলাপ জমাতে পারতেন। এতটাই সহজে যে, যার সাথে কথা বলছেন তার মধ্যেও থাকত না কোনো সংকোচ বা ইতঃস্তত বোধ। বহু আলাপে-আড্ডায় আমি তাকে দেখেছি যে-কোনো বয়সী মানুষের সাথে দীর্ঘদিনের চেনা লোকের মতো কথা বলতে।
আরো আগে থেকে যারা দেখছেন তারা নিশ্চয়ই আরো ভালো বলতে পারবেন।
আর ফাউন্ডেশনের কোথাও ভালো কিছু কেউ করছে দেখলে আন্তরিক প্রশংসা করতেন। একদিনের একটা ঘটনা মনে পড়ে—
২০১০ সালে কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাবের সূচনা হয়। সম্ভবত প্রথম ব্যাচেই তিনি অংশ নিলেন। পেছনের একটা সিটে বসে দুদিন মন দিয়ে সব শুনলেন। এর মাসখানেক পরের কথা। একদিন গুরুজী শহীদ আল বোখারী মহাজাতকের সাথে দেখা করে শান্তিনগর অফিস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন, দোতলা থেকে নামতে গিয়ে সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে মিনিটখানেক ধরে করলেন কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাবের কো-অর্ডিনেটর ও মূল আলোচক ডা. মনিরুজ্জামানের অকুণ্ঠ প্রশংসা। দৃশ্যটা চোখে ভাসে আমার।
সামনে বহু লোকে প্রশংসা করে, অন্তরালে বা একান্তে করে তেমন মানুষ এই সমাজে কজন?
আর গুরুজীর প্রতি তার ঐকান্তিক শ্রদ্ধা-সমীহ ছিল শিক্ষণীয়। সে-সব আমার চেয়ে যারা বেশি দেখেছেন বা জানেন তারা বলবেন। দুজনকে একসাথে দেখে আর দুজনের সহযাত্রার নানান টুকরো ঘটনা বিচ্ছিন্নভাবে শুনে আমার শুধু মনে হতো এবং এখনও মনে হয়—মার্ক্স-এঙ্গেলস আর লেলিন-ট্রটস্কির মতো মানিকজোড় বোধহয় কাল-জনপদ ভেদে ফিরে ফিরে আসেন।
৫.
তাকে ভোলার উপায় নেই। নিজের কাজ-অবদান কিংবা সুখস্মৃতি দিয়ে তিনি নিজেকে ভুলতে দেন না। আবার কোয়ান্টামমের আরোগ্যশালায় যখন নিরিবিলি চুপচাপ বসে থাকি, তখনও তিনি থাকেন সামনেই।
জাবলে রাজিউনের কাঁঠালতলায় তিনি শুয়ে আছেন। জীবনবাবুর ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সেই লাইন দুটো মনে পড়ে যায়—... সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল; সেখানে গাছের নাম : কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল; ...
পৃথিবীতে নিজের চারপাশের সবাইকে যেমন তিনি আনন্দে-হাসিতে সুখী করে রাখতেন, অনন্ত জীবনেও তিনি তেমনই আনন্দে-হাসিতে থাকুন। আজকের দিনে এই প্রার্থনা।
ডা. আতাউর রহমান
মেডিকেল কাউন্সেলর এন্ড মোটিভিয়ার
স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন