মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত মুজিব আলীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকালে এনসিপি'র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ওই পরিবারের সাথে দেখা করেন। এসময় তাঁরা মুজিব আলীর কবর জিয়ারতও করেন।
এনসিপি নেতাদের সাথে মুজিব আলীর স্ত্রী কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভাঙা কণ্ঠে তিনি তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। একটি স্বাধীন দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের মূল্য রয়েছে। সীমান্তে অবৈধ হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাজিস আলম বলেন, নিহত মুজিব মিয়ার রেখে যাওয়া একটি দশ মাসের শিশুর নীরব চোখ আজ যেন পুরো জাতির কাছেই একটি প্রশ্ন রেখে যায়-সীমান্তে আর কত প্রাণ হারালে এমন মৃত্যুর অবসান ঘটবে?
পরিবারটির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন এনসিপির নেতারা। সীমান্তে নিরাপত্তা, নাগরিকের জীবনরক্ষা এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের নৃশংস ঘটনার মুখোমুখি হতে না হয়।
এর আগে নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম ঐতিহ্যবাহী রবিরবাজার জামে মসজিদে পবিত্র জুম্মার নামাজ আদায় করেন। এসময় উপস্থিত হাজারো ছাত্র জনতা স্লোগানে তাদেরকে বরণ করেন।
এছাড়া রাতে কুলাউড়া জেলা পরিষদ মিলায়তনে কুলাউড়ায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন নাসীরদ্দিন পাটয়োরী।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন সন্ধ্যায় মাছ ধরতে গিয়ে শরীফপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন মুজিব আলী। পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
নিহত মুজিব মিয়ার মাত্র দশ মাসের একটি শিশু, যে এখনো জানে না তার বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না। বাবার কোলে বড় হওয়ার আগেই তার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে সবচেয়ে বড় আশ্রয়।