ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ প্রায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় ৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ও মানিকদাহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর ও হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েক হাজার গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে একাধিক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ কয়েক দফা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের সার্কেলের এক কর্মকর্তা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, কয়েকজন সাংবাদিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে সংঘর্ষ থেমে গেলেও পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।