ঢাকা | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিসিএসে বাজিমাত, কৃষি ক্যাডারে ৮ম আশফিক

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২
ad003
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছেন নেত্রকোণার কৃতি শিক্ষার্থী আশফিকুর রহমান ভূঞা। সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি কৃষি ক্যাডারে ৮ম স্থান অর্জন করে সহকারী পরিচালক/উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৩২০ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জনসহ মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। সেই তালিকায় কৃষি ক্যাডারে শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে ৮ম স্থান অর্জন করে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

আশফিক নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রাজনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত শিক্ষক পরিবারের সন্তান। তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় দক্ষিণ রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ থেকে ট্যালেন্টপুলে জেএসসি বৃত্তি অর্জন করেন। এরপর বাজিতপুর আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে ২০১৭ সালে জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

উচ্চমাধ্যমিকের পর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন তিনি। অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমে অনার্স ও মাস্টার্স—উভয় পর্যায়েই প্রথম শ্রেণিতে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

বিসিএসে সাফল্যের আগে আশফিক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে জুনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল)-এ সিনিয়র অফিসার পদেও নিয়োগ লাভ করেন। চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আশফিকুর রহমান ভূঞা বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমত, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও শিক্ষকদের দোয়া এবং দিকনির্দেশনা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। বিসিএসে ভালো করার জন্য নিয়মিত অধ্যয়ন, ধৈর্য এবং নিজের ওপর আস্থা রাখাই সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। যারা বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার পরামর্শ—পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করুন, হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান। ইনশাআল্লাহ, সাফল্য আসবেই।”

আশফিকের এ গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহপাঠী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নিজ জেলা নেত্রকোনাবাসীর মাঝেও বইছে উচ্ছ্বাস। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য ও কর্মজীবনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT