ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং রোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারকে (সেকমো) অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ সোমবার (২৯ জুন) জারি করা এক আদেশে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মোহাম্মদ মফিজুর রহমানকে গৌরীপুর উপজেলার বাড়িঝুরি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং মো. মিজানুর রহমানকে একই উপজেলার শাহনাটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করেন। আদেশে তাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বদলির আদেশের অনুলিপি ই-মেইলের মাধ্যমে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। আদেশে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শৃঙ্খলাজনিত কারণে এ বদলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ‘ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেকমোদের দৌরাত্ম্য’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরী গত ২৩ মে জরুরি বিভাগের ইনচার্জ রুবেল মিয়াকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অনন্ত কুমার বিশ্বাসকে নতুন ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেন।
একই দিনে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক) ডা. মো. আব্দুল মুন্নাফকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১৩ দিন ধরে সরেজমিন তদন্ত, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে গত ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই দুই সেকমোকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই সেকমোর বিরুদ্ধে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়, রেজিস্টার খাতায় সিরিয়াল নম্বরের ক্রম পরিবর্তন, একই নম্বর একাধিক রোগীর নামে ব্যবহার, ভুয়া সিরিয়াল নম্বর সংযোজন এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
এছাড়া সাবেক জরুরি বিভাগের ইনচার্জ রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধেও একই ধরনের অনিয়মের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার স্টেরিলাইজেশন মেশিন ব্যবহারে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও বদলির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার সাব্বির হোসেনকে ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধেও তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বদলির দাবি জানাচ্ছেন অনেকেই।