ঢাকা | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টাঙ্গাইলে মসজিদের মুয়াজ্জিনের স্বীকারোক্তি

সোনা লুটের উদ্দেশ্যে হাতুড়ির আঘাতে গৃহবধূকে খুনের পর সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়

author
স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল

প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২৬ দুপুর ৩:১০
ad003
টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় ঋণের চাপে স্বর্ণালঙ্কার লুটের
উদ্দেশ্যে গৃহবধূ নাজমা আলম নাজুকে খুন এবং মৃত্যু নিশ্চিত করার পর সিসি
ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয় বলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দি দিয়েছেন চৌরাস্তা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন।
মঙ্গলবার(৩০ জুন) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল
ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান মোশারফ হোসেনের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায়
লিপিবদ্ধ করেন। আদালতের পরিদর্শক মো. মুরাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, টাঙ্গাইলের চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ নাজমা আলম নাজু খুনের ঘটনায়
সদর থানা পুলিশ মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনকে(৪২) দন্ডবিধির ১৬৪
ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বিকালে আদালতে
হাজির করে। পরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব
খানের কাছে মোশারফ হোসেন জবানবন্দি দেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানাগেছে, জবানবন্দিতে মোশারফ হোসেন
জানিয়েছেন- মোশারফের সঙ্গে নাজমা আলম নাজুর পরিবারের দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে
যোগাযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোশারফ হোসেন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন
সময়ে নাজমা আলমের কাছ থেকে তিনি ঋণ নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্নজনের
কাছ থেকে ঋণ করেন এবং এনজিও থেকেও ঋণ নিয়ে লোকজনের কাছ থেকে নেওয়া কিছু
টাকা পরিশোধ করেন। ঋণের আরও টাকা পরিশোধের জন্য রোববার(২৮ জুন) তিনি আবার
নাজমা আলম নাজুর কাছে টাকা চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময়
ক্ষুব্ধ হয়ে মোশারফ হোসেন পাশের ঘর থেকে হাতুড়ি এনে তাঁর মাথায় আঘাত
করেন। পরে নাজমার হাতে ও গলায় থাকা স্বর্ণালংকার নেওয়ার চেষ্টা করলে
নাজমা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মোশারফ নাজমাকে আবার হাতুড়ি দিয়ে
পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। পরবর্তী
সময়ে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে
যান।

এরআগে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ নাজমা আলম নাজু(৫১)
হত্যার ঘটনায় গোপনে খবর পেয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে(৪৫) আটক
করা হয়। তার কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত
উদ্ধার করা হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস বেতকা
চৌরাস্তা মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত  মোশারফ হোসেন দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হোসেন গৃহবধূকে খুনের কথা স্বীকার করেন এবং
আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় তাকে আদালতে নেওয়া
হয়।

উল্লেখ্য, গত রোববার টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে
নাজমা আলম নাজুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক
চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
করা হয়।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান,
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় মৃতের গলার স্বর্ণের চেইন ও
হাতের বালা নিয়ে যাওয়া হয়। এরসূত্র ধরে প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ
কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার
সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT