সাধারণ মানুষকে আর ভূমিসেবা পেতে এ-টেবিল থেকে ও-টেবিলে হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না। একই ভবনে বা এক ছাতার নিচে মিলবে ভূমি জরিপ, মিউটেশনসহ (নামজারি) সব ধরনের সেবা। এত জনভোগান্তি হবে শেষ।
আজ মঙ্গলবার সাভার আশুলিয়ার সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গায় এই কমপ্লেক্সটি নির্মিত হতে যাচ্ছে।
ভূমি সচিব জানান, বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পটি ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। কমপ্লেক্সটির নির্মাণকাজ শেষ হলে বর্তমান উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস একই ভবনে স্থানান্তরিত হবে। ফলে জনভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।
সাভার উপজেলা মডেল মসজিদের পাশে অবস্থিত প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনের পর সকাল ৯টার দিকে সিনিয়র সচিব সাভার উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত দেখতে পান।
সেখানকার সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকালে সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন সচিবকে এলাকায় ভূমি উন্নয়ন কর আদায় কার্যক্রমের বিস্তারিত জানান।
এ সময় সহকারী কমিশনার সচিবকে জানান, ইতোমধ্যে সাধারণ দাবির শতভাগ (১০০%) আদায় সম্পন্ন হয়েছে।
এতে সন্তোষ প্রকাশ করে সিনিয়র সচিব উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, "মিউটেশনসহ অন্যান্য ভূমিসেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হয়। জনগণকে আইনি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে থেকে দ্রুত ও যথাযথভাবে সেবা প্রদান করতে হবে। এসময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের হোল্ডিং ও খতিয়ান এন্ট্রি এবং এ সংক্রান্ত ভুল সংশোধনের চলমান কার্যক্রমও খতিয়ে দেখেন তিনি।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) সহায়তায় ভূমিসেবা সিস্টেমে শতভাগ নির্ভুল ডেটা এন্ট্রির কাজ চলছে।
ইতোমধ্যে দেশের ৮টি জেলায় এর পাইলটিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় ডেটা এন্ট্রির কাজ চলমান। পর্যায়ক্রমে সারা দেশেই এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। এই ডেটা এন্ট্রি ও সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশের ভূমিসেবা সিস্টেম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়, সহজ ও জনবান্ধব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সাভারের মূল কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় আমিনবাজার উপজেলা ভূমি অফিসে যান সিনিয়র সচিব। সেখানেও তিনি সেবার মান ও কর আদায়ের খোঁজখবর নেন।
আমিনবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান জানান, সেখানে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৮৮ শতাংশ ভূমি উন্নয়ন কর আদায় হয়েছে। বাকি ১২ শতাংশ দ্রুত আদায়ের তাগিদ দিয়ে সচিব নির্দেশ দেন, যেকোনো মূল্যে শতভাগ (১০০%) কর আদায় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আমিনবাজারের সাধারণ মানুষ যেন কোনো রকম দালালি বা হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ভূমি মন্ত্রণালয়, সাভার উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।