ঢাকা | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পিপিকে ছুরিকাঘাত

author
গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১ জুলাই, ২০২৬ বিকেল ৪:১৯
প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
ad003
গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত এক অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরের (অতিরিক্ত পিপি) ওপর প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত, শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়নের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির হোসেন। আদালতের মতো সর্বোচ্চ নিরাপদ ও বিচারিক পরিবেশে এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।গত ২৮ জুন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করে।

থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানাগেছে, গত ২৫ জুন সকাল আনুমানিক ১১টায় গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করছিলেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির হোসেন। এ সময় একটি দাপ্তরিক বিষয়কে কেন্দ্র করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়নের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আবু তাহের নয়ন উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। বিষয়টি আদালতের পাশের কক্ষে অবস্থানরত অন্যান্য আইন কর্মকর্তাদের জানানো হলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি নিজের কাছে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে মনির হোসেনের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। মনির হোসেন আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আঘাতটি তাঁর ডান ভ্রুর ওপর লেগে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আহত মনির হোসেন মেঝেতে পড়ে গেলে অভিযুক্ত তাঁর বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালান। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ভবিষ্যতে তাঁকে হত্যা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন বলেও বাদী দাবি করেছেন।

হামলার পর গুরুতর আহত মনির হোসেনকে দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

পরে গত ২৮ জুন থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।সদর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি এফআইআর (মামলা) হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের তথ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে, মামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়নের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT