ঢাকা | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাছের খামারে চলত অশ্লীল ভিডিও কারখানা, পূর্বধলায় গ্রেফতার ৮

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৫:১৮
ad003
নেত্রকোণার পূর্বধলায় একটি মৎস্য খামারে মাছ চাষের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের অভিযানে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোতে শতাধিক অশ্লীল ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় অবস্থিত একটি মৎস্য খামারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— শিবপুর গ্রামের সাদির আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩০), তোতা মিয়ার ছেলে মো. শুভ (২০), দুলু মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (২০) ও জুয়েল মিয়া (৩২), সাদির আলীর ছেলে মজিজুল (২৫), মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে কাজল মিয়া (২০), মেঘশিমুল গ্রামের মৃত আমজত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান হাবি (৪০) এবং সালমাকান্দা গ্রামের আব্দুল গফুরের মেয়ে মোছা. মনিরা আক্তার (৩০)।

নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিবপুর এলাকায় টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শাফি খানের মালিকানাধীন ‘টাঙ্গাইল ফিশারী’ নামের একটি মৎস্য খামারে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

অভিযোগ রয়েছে, চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন অজ্ঞাতপরিচয় নারীকে সেখানে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করত এবং পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিত।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, ওই চক্রটি কয়েকজন নারীকে নিয়ে আবারও অশ্লীল ভিডিও ধারণে ব্যস্ত রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান (পিপিএম)-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে সেখানে আকস্মিক অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে সাতজন পুরুষ ও একজন নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও দুই অজ্ঞাতপরিচয় নারী এবং ছয় থেকে সাতজন পুরুষ সহযোগী দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জব্দ করা ১০টি স্মার্টফোন পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পারে, ২০২৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত চক্রটি শতাধিক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ফোনগুলোতে সংরক্ষণ করে রেখেছিল।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের বিরুদ্ধেও পূর্বধলা থানায় প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT