দেশের সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পুশইনকৃতদেও মধ্যে দু’জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে তাদেরকে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে অবৈধভাবে প্রবেশ করায় বিএসএফ। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে পুশইন’র কথা স্বীকার করে তারা জানিয়েছেন, যাদেরকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, বিজিবির প্রতিরোধের মুখে পুনরায় তাদের ভারতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
আটককৃতরা জানায়, তাদের বাড়ী বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়। তারা বিভিন্ন সময় যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। পরে সেখান থেকে তারা ভারতের গুজরাট সহ বিভিন্ন জায়গায় ছিল। বিএসএফ তাদেরকে বাংলাদেশের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করায়।
পুশইনকৃতরা আরও জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৪টায় বিজিবি আমাদেরকে আটক করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ করে রাতে বাসে তুলে দিবে বলে আমাদেরকে গাড়িতে তুলে। জানিনা আমাদেরকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে।
বিএসএফের পুশইন করা ১০ জন হলেন, রিহাদুল মোল্লা (৫৫) পিতা শফি উদ্দিন, ফরিদা বেগম (৪০) পিতা আতাউর রহমান,লাবিবা আক্তার (০৮) পিতা রিহাদুল মোল্লা, সুবা আক্তার (৩২) পিতা রউফ শেখ, দিলারা বেগম (৩৮) পিতা রউফ শেখ, রিতা বেগম (৪০) পিতা আকবর মোল্লা,রিয়া বেগম (২৫) পিতা বিরাগ শেখ, সাব্বির শেখ (১৯) পিতা: আলাউদ্দিন,লাইলি খাতুন (২৮) পিতা শহিদুল ইসলাম, তাদের সবার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলায় এছাড়া সালমা খাতুন (২৭) পিতা মনিরুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায় বলে জানা যায়।
এদিকে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, বিএসএফ যাদের বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছিল, তারা বিজিবির প্রবল বাধার মুখে পুনরায় ভারতীয় ভূখÐে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের বিষয়ে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক, সজাগ ও তৎপর রয়েছে।