ঢাকা | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীর খেলোয়াড়দের প্রাণকেন্দ্র বড় মাঠ এখন অবৈধ দোকানদারদের দখলে

author
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৪ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪
ad003
নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠের একাংশজুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান। ফলে দিন-দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের উন্মুক্ত পরিবেশ, সংকুচিত হচ্ছে খেলাধুলার পরিসর।

এক সময় জেলার ক্রীড়া চর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী এই বড় মাঠ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এখানে হাঁটাহাঁটি, ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি ও বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুখর থকতো মাঠের পুরো এলাকা। কিন্তু এখন সেই মাঠের একাংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাঠের একপাশ জুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হচ্ছে বিভিন্ন অস্থায়ী চা, ফাস্টফুড, পান-সিগারেটসহ নানা ধরনের দোকান। এসব দোকানের কারণে মাঠের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় মাঠে অনুশীলনে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা। মাঠ সংকুচিত হওয়ায় একটি মাত্র ক্রিকেট পিচে একাধিক দলকে অনুশীলন করতে সৃষ্টি হচ্ছে ভিড় ও সময় সংকট। অনেকেই বাধ্য হয়ে অনুশীলন না করেই ফিরে যাচ্ছেন।

যেখানে একসময় ভলিবল ও কাবাডি খেলা হতো, সেখানে এখন আর খেলাধুলার সুযোগ নেই। দু’টি ক্রিকেট মাঠের মধ্যে একটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড়সহ কয়েকজন খেলোয়াড় অভিযোগ করে জানান, এই মাঠে প্রকটিস করে জেলার অনেক খেলোয়াড় জাতীয় টিমে খেলছে। এখান থেকে অনেক বড়-বড় খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে অথচ, এখন মাঠের বড় একটি অংশ অবৈধ দোকানের দখলে চলে যাওয়ায় খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই, ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা দরকার। এসময় তারা আরো জানান, ক্রিকেট খেলার অনুশীলনে আগে দু’টি ক্রিকেট পিচ ব্যবহার করা যেতো আর এখন একটি কার্যত দখলে চলে গেছে। কোনো টুর্নামেন্ট চললে অনুশীলনের জন্য আর কোনো জায়গা থাকে না। মাঠ দখলমুক্ত হলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারবে। মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলে মাঠের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ পাবে।

এ নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এখন দোকানিদের নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT