সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেও অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, বিষ প্রয়োগ এবং বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। গত জুন মাসে খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ২৬টি মামলা দায়ের, ২৪টি নৌকা জব্দ এবং ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ২৫ বোতল ভারতীয় কীটনাশক, মাছ ও কাঁকড়া ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অন্যান্য আলামত।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের ন্যায় চলতি বছরের ১ জুন থেকে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, পর্যটকদের প্রবেশ এবং বনজ সম্পদ আহরণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে এক শ্রেণির অসাধু চক্র রাতের অন্ধকারে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, বিষ প্রয়োগ এবং হরিণ শিকারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে খুলনা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্টেশন কর্মকর্তা ও টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
জুন মাসে পরিচালিত অভিযানে মোট ২৪টি নৌকা জব্দ করা হয়। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি পিওআর (POR) এবং ২১টি ইউডিআর (UDR) মামলা রয়েছে। মামলাগুলোতে মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩ জন পলাতক রয়েছেন।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দায়ের করা মামলার মধ্যে বিষ প্রয়োগসংক্রান্ত ৬টি এবং হরিণ শিকারসংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া অভিযানে ২৫ বোতল ভারতীয় কীটনাশক, মাছ ও কাঁকড়া ধরার জাল, ফাঁদ, নৌকাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বন কর্মকর্তাদের দাবি, নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় প্রবেশ নিষিদ্ধকালীন সময়জুড়ে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন সব স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় জনগণসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।