ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পেকুয়ার ভোলা খাল, পুনরুদ্ধারের দাবি

author
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৫ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৫:০০
ad003
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভোলা খাল দীর্ঘদিনের দখল, ভরাট, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় কৃষিপণ্য পরিবহন, মাছ ধরা এবং নৌযাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই খাল এখন অনেক স্থানে সরু নালায় পরিণত হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর খালের ভেতরে মাটি ফেলে ভরাট করে বসতবাড়ি, দোকানপাট, মাছের ঘের ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও চর জেগে ওঠার সুযোগে, আবার কোথাও বসতভিটার নিরাপত্তার অজুহাতে খালের পাড় সম্প্রসারণ করে দখল স্থায়ী করা হয়েছে। ফলে খালের প্রস্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ভরাট হওয়া খালের কিছু অংশ পরবর্তীতে লিজ দেওয়ায় সরকারি খালের মূল প্রবাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি পেকুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকার গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক ও বাজারের আবর্জনা প্রতিদিন খালে ফেলা হচ্ছে। এতে পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর আবাসস্থলও হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, কয়েক দশক আগেও ভোলা খালে ছোট-বড় নৌকা চলাচল করত। কুতুবদিয়া, মগনামা, রাজাখালী, পেকুয়া ও বারবাকিয়া এলাকার মধ্যে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে এই খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। বর্তমানে পলি জমে নাব্যতা হারানো এবং দখলের কারণে সেই নৌযোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে, মগনামায় নির্মাণাধীন সাবমেরিন নৌঘাঁটিকে কেন্দ্র করে উপজেলার প্রধান খালগুলো দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জোরালো হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের পাশাপাশি কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভোলা খালসহ মাতামুহুরী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সব প্রধান খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

নোঙর বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক এফ এম সুমন বলেন, পেকুয়া বাজারের বর্জ্য এবং অবৈধ দখলের কারণে ভোলা খাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খালের ভেতরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও মাছের ঘের উচ্ছেদ করে দ্রুত পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবানের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জমির হোসেন বলেন, ভোলা খালসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খালের তালিকা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর খননের পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও ভূমি প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পরিকল্পিত পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা পাবে, পরিবেশের ভারসাম্য ফিরবে এবং একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই খাল নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT