ঢাকা | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ : ডা. জুবাইদা রহমান

author
যাযাদি রিপোর্ট

প্রকাশিত : ৬ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:০২
ad003
প্রখ্যাত চিকিৎসক ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ।  শিশুদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমাদেরকে  ভালো ভাবে পড়াশোনা করে বাংলাদেশ কে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করতে হবে। তোমরাই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ।       

ডা. জুবাইদা রহমান আজ সকালে তেজগাঁও সরকারী শিশু পরিবার বালিকা পরিদর্শন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  এসব কথা বলেন। 

সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ‘সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)’  আজ পরিদর্শন  করেন দেশের  ফার্স্ট লেডি ডা.জুবাইদা রহমান। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত রাষ্ট্রীয় শিশু কল্যাণমূলক কর্মসূচির মধ্যে ‘সরকারি শিশু পরিবার’ অন্যতম।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বহু শিশু এতিম ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। তৎকালীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এসব শিশুর পুনর্বাসন ও সুরক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে  রাষ্ট্রীয় অনাথ আশ্রম' (State Orphanage) হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

 পরবর্তীতে সমাজসেবা অধিদপ্তর এই এতিমখানাগুলোর আধুনিকায়ন করে। ১৯৭৪ সালের অনাথ আশ্রমগুলোকে ১৯৮৬ সালে ‘সরকারি শিশু সদন’ এবং সর্বশেষ ২০০০ সালে একটি পারিবারিক আবহ ও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নাম পরিবর্তন করে ‘সরকারি শিশু পরিবার’ হিসেবে নামকরণ করা হয়। এর মধ্যে বালিকাদের জন্য ডেডিকেটেড  উক্ত শাখাটি অবহেলিত ও এতিম বালিকাদের সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।

তেজগাঁও সরকারী শিশু পরিবার (বালিকা)-এর সৃষ্টির ইতিহাস এবং এর মূল কার্যক্রম ও সেবাসমূহ  : 
প্রতিষ্ঠানটি সর্বপ্রথম ১৯৪৮ সালে বেসরকারিভাবে  বাইতুল আতফাল-ই-ছাবিয়া এতিমখানা" নামে বেসরকারী ভাবে যাত্রা শুরু করে।                    পরবর্তীতে ২১/১০/৮২ ইং তারিখ হতে এই এতিমখানাটিকে সম্পূর্ণ সরকারি সংস্থায় রূপান্তর বা সরকারীকরণ করা হয় এবং এটি "সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), তেজগাঁও, ঢাকা" হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

এতে ১৭৫ জন নিবাসীর আসন থাকলেও বর্তমানে ১১৩ জন নিবাসী আছে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্ববধায়ক সানজিদা  আয়েশা। 

প্রতিষ্ঠানটির সিটিজেন চার্টার  অনুযায়ী এতিম ও দুস্থ কন্যা শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, প্রতিপালন, কল্যাণ, উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারী খরচে নিম্নলিখিত সেবাসমূহ প্রদান করা হয়:
 আরো জানা যায়,  অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত এতিম ও দুস্থ কন্যা শিশুদের পারিবারিক পরিবেশে স্নেহ, ভালোবাসা ও আদর-যত্নের সাথে লালন-পালন নিশ্চিত করা হয়।

 নিবাসীদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

 নিবাসী কন্যা শিশুদের শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক উৎকর্ষ সাধনে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

 নিবাসীদের স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে চাকুরির মাধ্যমে, বিয়ের মাধ্যমে, সাধারণ বা উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে কিংবা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজিকীকরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়।

 সোমবার ১০:৩০টায় তেজগাঁও সরকারী শিশু পরিবার (বালিকা) ফার্স্টলেডীর  এই পরিদর্শনকে ঘিরে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) ধুয়ে-মুছে সাফ করা হয়েছে চারপাশ, সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।

 পরিদর্শনকালে ফার্স্ট লেডি ডাঃ জুবাইদা রহমান নিবাসী  শিশুদের সাথে তিনি কিছু সময় কাটান ও তাদের পরিবেশিত সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এতে তিনি শিশুদের পরিবেশিত বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। 

সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ফার্স্ট লেডী ডা.জুবাইদা রহমানের  সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন সমাজ কল্যান প্রতি মন্ত্রী ফারজানা শারমিন  পুতুল  এমপি, মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ,  অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোঃ মাহবুব হোসেনসহ  অধিদপ্তরের  সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাগন।           

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজ কল্যান এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি। শুভেচ্ছা বক্তব্যে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোঃ মাহবুব হোসেন জানান, অসহায়  ও এতিম শিশুদের লালন পালনের  জন্য সারা দেশে ৮৫ টি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন , ফার্স্ট লেডির এই সংবেদনশীল সফর শিশু পরিবারের বালিকাদের মানসিক বল ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান আরও বেগবান করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। অনুষ্ঠান শেষে ডা. জুবাইদা রহমান শিশু পরিবার প্রাঙ্গনে একটি ফুলের চাড়া রোপন করেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT