প্রায় চার লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার ভরসাস্থল সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০১৬ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও সয়ংসম্পূর্ণ প্যাথলজি ডিপার্টমেন্ট না থাকার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশেই ব্যঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ব্যক্তিমালিকানাদীন এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জনবল দিয়ে চলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি দালাল চক্র সিন্ডিকেট।
যাদের ক্ষপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। ডাক্তারের চেম্বার থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রঙ্গণ, সর্বত্রই দালালের ভোগান্তির শেষ নেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের। জরুরি সেবা প্রদানেও রয়েছে কর্তৃপক্ষের প্রতি রোগীদের অভিযোগ। আর অভিযোগের বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রপাতি, চিকিৎসক সহ নানা সংকট রয়েছে। কর্তৃপক্ষের সেবার মনমানসিকতার অভাব। তার উপরে রয়েছে সেবা প্রত্যাশীদের নানা অভিযোগ। স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগের যেন অন্ত নেই। সব কিছুর সংকট থাকায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের চেম্বার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রঙ্গণে রয়েছে দালাল চক্রের সিন্ডিকেট। আর এসব দালালদের ফাঁদে পড়ে রোগীদের খোয়াতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একাধিক রোগীরা জানান, সরকারি হসপিটালের জরুরী বিভাগের সেবা ফ্রি দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে সেবা দেওয়া সরঞ্জাম না থাকার অজুহাত দিয়ে
হাসপাতালের বাহির থেকে রোগীদের কিনে দিতে হয় নানা উপকরণ। সরকারি হসপিটালে এসেও রোগীর খোয়াতে হয় বাড়তি খরচ। রোগ নির্ণয়ের জন্য সয়ংসম্পূর্ণ প্যাথলজি না থাকার কারণে ডাক্তারের চেম্বার থেকে রোগী বের হওয়ার সাথে সাথে ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মজুদ থাকা দালাল চক্রের সক্রীয় সদস্যরা রোগীর ব্যবস্থাপত্র হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ছুটছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। এতে করে রোগীদের ভোগান্তির পাশাপাশি খোয়াতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আসফিয়া সাবরিন সংবাদকর্মীদের জানান, রোগীদের ভোগান্তির বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
রোগীদের স্বাস্থ্য সেবার শেষ ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত সেবা প্রত্যাশীরা সরকারি সকল সুবিধা ভোগ করবে সেই সাথে দালাল মুক্ত পরিবেশ আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে স্বাস্থ্য দপ্তর এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।