ঢাকা | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা শুরুর ৫ দিন পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের আতঙ্ক? বোর্ডের ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’র চিঠিতে জনমনে প্রশ্ন

author
যাযাদি রিপোর্ট

প্রকাশিত : ৭ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
ad003
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ৫ দিন পার হয়ে গেলেও হঠাৎ প্রশ্নপত্র গ্রহণ, বিতরণ ও গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। আজ ৭ জুলাই (মঙ্গলবার) বোর্ডের পক্ষ থেকে দেশের সব পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এই জরুরি চিঠি পাঠানো হয়। পরীক্ষা শুরুর এত দিন পর হঠাৎ এমন কড়া নির্দেশনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র উৎকণ্ঠা এবং প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—তবে কি চলতি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোনো আশঙ্কা বা আলামত পাওয়া গেছে, যার কারণে পরীক্ষা চলমান থাকা অবস্থায় এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে হলো?

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ, পরীক্ষা কক্ষে প্রেরণ এবং পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের প্রতিটি ধাপে ‘অত্যন্ত সতর্কতা’ অবলম্বন করতে হবে।

চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষা কক্ষে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো প্রশ্নপত্র দেওয়া যাবে না। প্রশ্নপত্র বিতরণ শেষে অব্যবহৃত প্রশ্নপত্র তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র বা তার কোনো অংশ পরীক্ষা কক্ষের বাইরে নেওয়া যাবে না।

সাধারণত পরীক্ষার ঠিক আগে বা শুরুতে এই ধরনের রুটিন নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু গত ২ জুলাই পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ার পর, আজ ৭ জুলাই এসে এমন নির্দেশ জারি করায় শিক্ষা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পরীক্ষা শুরু হয়েছে ৫ দিন হয়ে গেল। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষাও শেষ। এখন এসে যদি বোর্ড প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’র কথা বলে, তবে পেছনের পরীক্ষাগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে আমরা কীভাবে নিশ্চিত হব? কোনো ঝামেলা না হলে হঠাৎ মাঝপথে এসে এমন কড়া চিঠি দেওয়ার তো কোনো কারণ দেখি না।"

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষা চলাকালীন মাঝপথে এ ধরনের চিঠি ইস্যু করা বোর্ডের এক ধরনের সমন্বয়হীনতা ও দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। এতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে।

এ বিষয়ে বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। তবে হঠাৎ জারি করা এই নির্দেশনা কেন্দ্রগুলোতে কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো গোপন কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জনমনে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT