গাজীপুরের শ্রীপুরে এক রাতেই তিন কৃষকের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ছয়টি গরু চুরি হয়েছে। একই রাতে পাশের একটি মাদ্রাসায়ও হানা দেয় চোর চক্র।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে এসব গরু চুরি হয়। এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন পটকা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে কবির হোসেন বলেন, ১০ বছর ধরে গরু আমি গরু লালনপালন করি এবং এই আয় দিয়েই সংসার চালাই। অন্যান্য রাতে রাত জেগে পাহারা দিতাম। বুধবার রাতে আমাদের গ্রামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান ছিল। রাত দেড়টা পর্যন্ত গোয়ালঘরে গিয়ে গরুগুলো দেখে তারপর ঘুমাতে যাই। ভোররাত তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখি,গেট ও গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তিনটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরু চোরে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, চুরি হওয়া গরুর মধ্যে দুটি গাভী ও একটি ষাঁড় রয়েছে। কালো ও সাদা রঙের দুটি গাভীই গাভিন ছিল এবং প্রতিদিন প্রায় ৩০-৩২ লিটার দুধ দিতো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই দুধ বিক্রি করতাম। গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা হবে। ঘটনাস্থলে পিকআপ ভ্যানের চাকার দাগ পাওয়া গেছে। আমার ধারণা, ছোট ট্রাকে করে চোরচক্র গরুগুলো নিয়ে গেছে।'
কবির হোসেন বলেন, “গত রাতে বাড়ির পাশেই একটি বাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া চলছিল। ভেবেছিলাম ওই বাহিনীর সদস্যরা থাকায় চুরি হবে না। পরে জানতে পারি, মহড়া রাত ১২টার দিকে শেষ হয়ে যায়। এরপরই সুযোগ বুঝে চোরেরা গরু নিয়ে গেছে। রাত জেগে পাহারা দিয়েও শেষ পর্যন্ত গরু রক্ষা করতে পারলাম না। এটাই ছিল আমার শেষ সম্বল।”
একই রাতে কৃষক হাদিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকেও দুটি গরু চুরি হয়েছে।
অপরদিকে খামারি আজিজুল ইসলাম জানান, তার একটি গাভী চুরি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা।
দারুল উলুম হামিউ সুন্নাহ মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ সাইফুল ইসলাম বলেন,' মাদ্রাসার এক পাশে গরু লালনপালন করি। গতরাতে মেইন গেটের তালা কেটে ফেলে। আমরা খোঁজ পেয়ে লাইট নাড়াচাড়া করি। আমরা নিয়মিত পাহারা দেই।'
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, কয়েকদিন আগেও একই গ্রামের কাজল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছিল। গত ১মাস চুরি বন্ধ থাকার পর এখন আবারও ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। খামারিরা রাত জেগে পাহারা দিলেও চোরচক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাখাল চন্দ্র বলেন, “সকালে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একজন কৃষকের তিনটি গরু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। আমি উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি।'
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহীনুর আলম মুঠোফোনে যায়যায়দিনকে বলেন,' আমি ছুটিতে ছিলাম। ডিউটি কারা করেছে খোঁজ নিচ্ছি। এছাড়াও থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”