ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার ২০-২৫ গ্রাম প্লাবিত

author
বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৬:১১
ad003
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর ঢলের পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

প্লাবিত গ্রামের মধ্যে বাহুবল উপজেলার দীমুড়া, ভুলকুট, হাফিজপুর, ছন্দ্রচড়ি, রামপুর, পালপাড়া, নন্দনপুরসহ আরও কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া, বনগাঁও, শুঘর, আউশপাড়া, নোয়াবাদ সহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলও পানিতে তলিয়ে গেছে। আকস্মিকভাবে ঢলের পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তলিয়ে গেছে শত শত বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক, পুকুর এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাদ্য ও গবাদিপশুর খাদ্যের সংকটও।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা জানান, আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও অন্যান্য আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাছের ঘের, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়েও বিপাকে পড়েছেন অনেক পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই পরিণতিতে বাঁধ ভেঙে আজ দুই উপজেলার ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের হাজার হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কার ও স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ না নিলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এ ধরনের ভয়াবহ দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT