ঢাকা | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপকূলে লাশের মিছিল: দুই দিনে ৫টি লাশ

author
জাবেদ আবেদীন শাহীন, কক্সবাজার

প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:১০
ad003
কক্সবাজার ও টেকনাফ উপকূলীয় জনপদ বর্তমানে এক গভীর রহস্য ও আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি অজ্ঞাতপরিচয় লাশের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এসব উদ্ধারকৃত মরদেহের বীভৎস অবস্থা এবং ধারাবাহিকভাবে একের পর এক সাগরে ভেসে আসার ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে সেন্টমার্টিন সমুদ্রসৈকত থেকে একটি, সন্ধ্যার দিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সৈকত থেকে আরেকটি এবং একই সময়ে সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া উপকূল থেকে তৃতীয় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশের মধ্যে একটি নারীর মরদেহ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে টেকনাফ মডেল থানা কর্তৃপক্ষ।

এরই রেশ না কাটতেই, ওনদিন বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে সাগরের জোয়ারে ভেসে আসে আরও একটি খÐিত মরদেহ। এসময় ঘঁনাস্থল থেকে বিচকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
       
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মরদেহের মাথা ও কোমরের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং দীর্ঘক্ষণ লবণাক্ত পানিতে অবস্থানের কারণে তা পচে বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে লাশের লিঙ্গ বা পরিচয় শনাক্ত করা প্রাথমিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন কচুবুনিয়া-কাটাবুনিয়া উপকূল থেকে আরও একটি মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সঞ্জীব জানান, সাগরের লোনা পানিতে দীর্ঘ সময় থাকায় দেহটি সম্পূর্ণ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।
                
স্থানীয় সচেতন মহলের ধারনা, বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীপথে মানবপাচার বা অবৈধ নৌযাত্রার কারণে মাঝেমধ্যে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাঁচটি লাশের উপস্থিতি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তারা। একইসঙ্গে গত কয়েক দিনে জোয়ারের স্রোত ও সামুদ্রিক প্রকৃতির আকস্মিক পরিবর্তন স্থানীয় জেলে ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
                  
থানা সুত্রে জানা যায়, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী কোনো ট্রলারডুবি, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের বহনকারী নৌযানের বিপর্যয় কিংবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় কোনো নৌকাডুবির ফলে এসব অজ্ঞাত মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে উদ্ধারকৃতদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে, পরপর পাঁচটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসনের টনক নড়েছে। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উদ্ধারকৃত মরদেহের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট), ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে আসার পরই এসব মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ ও ভুক্তভোগীদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT