ঢাকা | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে থামছেই না গরু চুরি: তিন দিনে তিন গ্রামে ৫টি গরু উধাও, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা

author
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:১৮
ad003
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে গরু চুরির ঘটনা। সর্বশেষ তিন দিনে উপজেলার তিনটি গ্রাম থেকে অন্তত পাঁচটি গরু চুরির ঘটনায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলছেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও চোরচক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ জুলাই দিবাগত রাতে উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভী ও একটি বাছুরসহ মোট তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একই রাতে মেগুরখির্দা গ্রাম থেকেও একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন, ৯ জুলাই দিবাগত রাতে পৌর এলাকার ইশ্বরবা গ্রামের খামারি আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরি হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের চলাচলের দৃশ্য পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

বলিদাপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম বলেন, “তিনটি গরুই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। দুধ বিক্রি করেই সংসার চলত। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।”

ইশ্বরবা গ্রামের খামারি আইয়ুব হোসেন বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরু পালন করি। কিন্তু এক রাতে চোরেরা সব নিয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে গরু পালন ছেড়েই দিতে হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক এলাকায় গ্রামবাসী নিজেরাই রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এর আগেও গত ১৫ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২৬ জুন দিবাগত রাতে আগমুন্দিয়া গ্রামের সৈয়দ আলীর বাড়ি থেকে পাঁচটি গরু, ২০ জুন ভাদঘারা গ্রামের আব্দুস ছালামের বাড়ি থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু এবং ১৫ জুন একই গ্রামের নায়েব আলীর বাড়ি থেকে প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি হয়।

এদিকে, ২৫ জুন রাতে ভাদঘারা গ্রামের বাসিন্দারা গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে গরু চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আলামত না পাওয়ায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠায়।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, “গরু চুরির ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় উপজেলার কৃষক ও খামারিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত চোরচক্রকে গ্রেপ্তার এবং গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT