বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহছানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ভারতের সাথে আমাদের নদী সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এই কারণে বাংলাদেশে মাঝে মাঝে বড় ধরণের বন্যা হয়।
তিনি বলেন, আমদের দেশের নদী গুলোর অসুবিধার কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়া। বন্যার ঢল যখন নামে তখন সমস্যার সৃষ্টি হয়। সরকারের দ্বয়িত্ব হচ্ছে অভিজ্ঞতার আলোকে বাঁধ নির্মাণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা করা।
শনিবার সকালে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে টেংরা মাদ্রাসায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদেও মাঝে ত্রাণ বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন তিনি।
এডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, এই যে বৃষ্টি আসা, বৃষ্টির পানি নদীতে আসা যাওয়ার মধ্যে নদী ব্যবস্থাপনার একটা নিয়ম আছে। এটি করার দ্বায়িত্ব সরকারের। মন্ত্রনালয় না করার কারণে এই সমস্যা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫৬টি নদীর সংযোগ রয়েছে। ভারত অধিকাংশ নদীতে বাঁধ দিয়ে রেখেছে। তারা পানি আটকিয়ে রেখে বৃষ্টির সময় পানি ছেড়ে দেয়। পানি আটকিয়ে রেখে তারা সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। করতে অসুবিধা নেই। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, আন্ত নদী সংযোগ নিয়ে উভয়ে আলাপ করতে হয়। আমাদের একটা নদী কমিশন রয়েছে। কিন্তু নদী কমিশন ভারতের সাথে মিটিং করতে পারে না। তারা বড় লোক তো, মোটা সোটার কারণে তাদের পা পিছিয়ে আছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এটি আমাদের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়েছে। একটা হচ্ছে, সরকারের যে সমস্ত মন্ত্রনালয়ে দ্বায়িত্ব তাদের অবনতির দিকে আনা,দূর্নীতি ও লুটপাটের মনমানসিকতা। যার কারণে আমরা বার বার এই সমস্যায় পড়েছি। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ভারতের সাথে আমাদের নদী সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এই কারণে বাংলাদেশে মাঝে মাঝে বড় ধরণের বন্যা হয়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে সিলেট,রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বড় ধরণের বন্যা হয়। এতে আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। যদি সরকার এই সমস্ত বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল হতেন ও আমরা ঠিকমত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রাখতে পারতাম। এরকম আলোচনা আমরা আশা করবো। সরকার এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। আলোচনা সংসদে আসবে। তিনি বলেন বিরোধীদল জাতীয় স্বার্থে জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে জুবায়ের বলেন, ২৪’র ৫ আগষ্ট এর বাংলাদেশে বৈষম্য দুর করার আন্দোলনে আমরা সফল হয়েছি। সৈরাচারের বিরোদ্ধে আমরা সফল হয়েছি। ফেসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয় লাভ হয়েছে। তিনি শেখ হাসিনা কে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ফেসিবাদ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এখন ফেসিবাদ ভারত থেকে আমাদের হুমকি দেয়। বলে ডিসেম্বরে আমি আসতেছি। তিনি বলেন, আসতে যদি চায় তবে গেল কেন? এখন বলে মাথা উচু করে আসবে। এসে আদালতে সারেন্ডার করবে। তিনি বলেন, ভালো কথা। মামলা আছে। মানুষ মেরেছেন। ক্রসফায়ার করেছেন। আয়না ঘরেও মেরেছেন। কিনা করেছেন? তিনি বলেন, সাড়ে ১৬ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংসদীয় ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ভেঙ্গে লুটপাট করেছে ডাকাত দল। তারা হাজার হাজার মানুষকে গুম করেছে। ক্রসফায়ারে মেরেছে। বাংলাদেশে আজকের অর্থনীতি খারাপের পিছনে তারা দায়ী। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ২৮ লক্ষ কোটি টাকা তারা পাচার করেছে। এবছরে দেশের বাজেট ৯ লাখ কোটি টাকা। তিনি হাসিনাকে উদ্যেশ্য করে আরও বলেন, দেশে আসেন । ফাঁসির দড়ি আপনার জন্য অপক্ষো করছে। তিনি বলেন, আগষ্টে ১৪শ মানুষ হত্যা,২০ হাজার আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এসবের বিচার হবে। আগামীর বাংরাদেশে ফ্যাসিবাদের কোন ঠাই হবে না। এদেশর জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা অর্থনীতি ঠিক করবো। আমাদের জনসংখ্যা জন সম্পদে পরিনত হবে। যেখানো কোন দূর্নীতি ও কোন বৈষম্য থাকবেনা।
পরে রাজনগর উপজেলা আমীর আবুর রাইয়াান শাহিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মিসবাহুল হাসানের পরিচালনায় অধিক ক্ষতিগ্রস্থ ১২০ জন বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জামায়াতের মৌলভীবাজার জেলা আমীর প্রকৌশলী মোঃ সায়েদ আলী। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা আমীর মোঃ আব্দুল মান্নান, জেলা সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামীর আলী, বিগত নির্বাচনের
মৌলভীবাজার -১ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মোঃ আলা উদ্দীন শাহ, রাজনগর উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল শহীদ, রাজনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মাস্টার জাহাঙ্গীর আহমদ মুহিত,, রাজনগর সদর ইউনিয়ন আমীর দেলোয়ার হোসেন বাবলু, টেংরা ইউনিয়ন সভাপতি মাহমুদুর রহমান, সেক্রেটারি মামুন আহমদ ও প্রবাসী নেতা আবুল কালাম রাসেল।