রাঙ্গামাটি রাজস্থলী উপজেলায় টানা প্রবল বর্ষনের পানির তোড়ে ভেসে গেছে সাংবাদিক আজগর এ ক্যাচিপ্রু মারমার গরু। শনিবার ভোর রাতে স্থানীয় কাপ্তাই গখালে গরুগুলো ভেসে যায়। এই ঘটনায় একের পর এক মরা গরু ভেসে উঠছে। এতে কৃষক ও সাংবাদিক আজগরের প্রায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হবে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। তাই হাউমাউ করে কাঁদছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ক্যাচিপ্রু মারমা।
স্থানীয় সূত্র জানায়,উপজেলার মহাজন পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের কৃষক ক্যাচিপ্রু মারমার ৬ টি, ও দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার রাজস্থলী প্রতিনিধির ২ টি গরু পানির তোড়ে ভেসে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী বাজার চৌকিদার মিজান বলেন, আজকের দিনটি আমাদের গ্রামবাসীর জন্য একটি দুঃখের দিন। আমাদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা চালায়। সবারই গরু রয়েছে। মহাজন পাড়ার গ্রাম-সংলগ্ন জমিতে ঘাস খাইয়ে গরুগুলো লালন-পালন করেন সবাই। গ্রাম এবং জমির মাঝ খানে একটি খাল রয়েছে। খাল পাড়ি দিয়ে জমিতে গিয়ে ঘাস খেয়ে প্রতিদিন বিকালে গরুগুলো আবার গোয়ালে ফিরে আসে। শনিবার সকালে প্রবল বর্ষণে পানির তোড়ে গরু ভেসে যায়। এর মধ্যে দুপুরে ৮ টি মৃত গরু উদ্ধার করা হলেও এখন পর্যন্ত আরো কয়েক টি গরু নিখোঁজ। এসব গরু হারিয়ে কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়ছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক ক্যাচিপ্রু বলেন, এমন ঘটনা জীবনেও ঘটেনি। এমন কিছু ঘটতে পারে তা আমরা চিন্তাও করিনি। আমার ৬টি গরু পানির তোড়ে ভেসে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি, পথের ফকির হয়ে গেছি।
১ নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা বলেন, এরকম একটি খবর আমিও পেয়েছি। স্থানীয় ইউপি সদস্যকে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
রাজস্থলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিন্টু বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছি আমরা। যতটুকু সম্ভব আমরা তাদের সাহায্য করব।
রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হাসান এর সাথে কল করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।