ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, যৌথ অভিযানে ১৫০ কেজি চিংড়ি ও নৌকা জব্দ

author
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২০
ad003
সুন্দরবনে চিংড়ির প্রজনন মৌসুম চলায় পর্যটক প্রবেশসহ সব ধরনের পাস-পারমিট সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও নিষিদ্ধ। তবে এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও বিষ দিয়ে মাছ শিকারী চক্র বনাঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে অবৈধভাবে মাছ আহরণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় বিষ দিয়ে মাছ শিকারী চক্রের বিরুদ্ধে একটি ঝুঁকিপূর্ণ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আনুমানিক ১৫০ কেজি বিষযুক্ত চিংড়ি মাছ এবং একটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

অভিযানটি পরিচালনা করেন 'স্মার্ট খুলনা-১' টিমের টিম লিডার ও বজবজা ক্যাম্পের ওসি শাহিনুর রহমান শাহিন। এতে অংশ নেন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন এবং বজবজা টহল ফাঁড়ির একদল বনরক্ষী।

বন বিভাগ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের জোড়শিং পল্টন সংলগ্ন হারেজখালি গ্রামের পাশের নদীতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বিষ প্রয়োগ করে ধরা চিংড়ি মাছ ও একটি নৌকা জব্দ করা হলেও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা লোকালয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিষ দিয়ে মাছ শিকার শুধু সুন্দরবনের জলজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। উদ্ধার করা বিষযুক্ত চিংড়ি কোনোভাবেই খাদ্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়। তাই বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মাছগুলো দ্রুত মাটির নিচে পুঁতে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে।

বন বিভাগ আরও জানিয়েছে, চিংড়ির প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের নদী-খালে অবৈধ মাছ শিকার, বিষ প্রয়োগ ও বনজ সম্পদ লুটপাট ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT