ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উল্লাসের রাতেই নিভে গেল দীপ্ত

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০৫
ad003
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে যখন আনন্দে মেতেছিলেন হাজারো সমর্থক, ঠিক তখনই নেত্রকোণায় ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। 

বিজয় উদযাপনের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে একটি ভবনের ছাদে ওঠেন কলেজ শিক্ষার্থী। 

কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে ছাদ থেকে নিচে পড়ে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মুহূর্তেই উৎসবের আবহ পরিণত হয় শোকের মাতমে।

নিহত দীপ্ত চৌধুরী (২৪) নেত্রকোণা পৌর শহরের মালনী রোড এলাকার বাসিন্দা বাদল চৌধুরীর ছেলে। তিনি নেত্রকোণা সরকারি কলেজের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে রাতে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় যান দীপ্ত। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার জয়ে সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস শুরু হলে সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্যে তিনি শহীদ মিনারসংলগ্ন একটি দ্বিতল ভবনের ছাদে ওঠেন।

একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে তিনি ছিটকে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। 

ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথ জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় দীপ্ত চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে।

নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আর্জেন্টিনার জয়ের পর বিজয় উল্লাসের ভিডিও ধারণ করতে সিঙ্গার শোরুমের দ্বিতীয় তলার ছাদে ওঠেন দীপ্ত চৌধুরী। 

এ সময় বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

দীপ্তর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে বিজয়-উল্লাসে অংশ নিতে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন, সেই আনন্দই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT