ঢাকা | বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৈয়দপুরে লটারি জুয়া এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ

author
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৪৭
ad003
নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রায় একমাস থেকে শুরু হওয়া গ্রামীণ কুটির ও শিল্প মেলায় ১০ টাকার প্রবেশ টিকিটে ৩১টি ইভেন্টে লক্ষ-লক্ষ লটারি জুয়া শুরু হওয়ার খবরে এলাকাসীর মাঝে ক্ষোভসহ জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে লটারি জুয়া বন্ধে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ বিক্ষোভ করা হলেও নতুন করে আরো আঁটঘাট বেঁধে লটারি জুয়া চালুর খবরে এলাকার সূধী সমাজের মাথায় যেন বাঁজ ভেঙ্গে পড়েছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এমনকি উপজেলা প্রশাসনের আইন-শৃংখলা মিটিংয়েও এ জুয়া বন্ধের জন্য দাবি জানানো হয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা মাধ্যমেও এ জুয়া বন্ধের জন্য নেতিবাচক মন্তব্য প্রকাশসহ প্রশ্ন রাখা হচ্ছে যেখানে বর্তমানে দেশে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বন্যা-কবলিত এলাকায় চলছে সাহায্যের জন্য হাহাকার। বর্তমানে এইচএসসি’ পরীক্ষা চলমান। বিদ্যূৎ সরবরাহেও চলছে লোড-শেডিং। অথচ, মেলায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে রহস্যজনকভাবে বিদ্যূৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকছে। নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের বাজারেও চলছে অগ্নিমূল্য। সেখানে এক শ্রেণির সুযোগ-সন্ধানিরা গ্রামীণ কুটির ও শিল্প মেলার নামে শুরু করছেন লটারির জুয়া। 

গতবছরেও এ লটারির জুয়া চালিয়ে অহসায়-গরীব মানুষদের লোভের ফাঁদে ফেলে কোটি-কোটি টাকা কামিয়েছে জুয়ার আসর বসানো ব্যক্তি ও তার দোসরেরা। তখন তাদের জুয়ার ফাঁদে এলাকার গরীব-অসহায় মানুষজন তাদের গরু-ছাগল, হাঁস-মরগিসহ ভিটে-মাটি বিক্রি করে স্বর্বশান্ত হয়েছিলেন। যার ক্ষত এখনও অনেক পরিবারে রয়েছে। অবশ্য, তখন সেননিবাসের স্থানীয় সেনা সদস্যদের হস্তক্ষেপে তা’ বন্ধ হলেও এবারো আবার একইভাবে বৃষ্টি-বন্যা ও তীব্র গরমের মধ্যে একই কায়দায় নীলফামারী জেলাবাসীসহ আশেপাশের জেলার অসহায়-গরীব মানুষদের লাখ-লাখ টাকার জুয়ার ফাঁদে ফেলে তাদের স্বর্বশান্ত করার জন্য মেলার নামে লটারির জুয়া চালু করছেন। 

অভিযোগ উঠেছে যে এবারো গতবছরের মতো সমাজে যারা নিজেদের সূধীজন, নেতা, সৎ সংবাদকর্মী, সমাজসেবক হিসাবে জাহির করেন তারাই নিজেদের স্বার্থের জন্য এ লটারি জুয়া চলতে সহায়তা করছেন।  

তাই, স্থানীয় সূধীমহল এখনই এ জুয়া বন্ধ করতে সরকারি উচ্চ মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে বলছেন, তা’ না করা হলে এবার আরো গরীব-অসহায় মানুষরা এ মরণ নেশার জুয়ার ফাঁদে পড়ে তাদের স্বর্বস্ব হারাবেন।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের ৩/৪দিন আগে অনুষ্ঠিত আইন-শৃংখলা রক্ষা কমিটির মিটিংয়ে এ লটারি জুয়া নিয়ে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা’ জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার মোবাইল ফোনে বার-বার কল দিয়েও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT