ঢাকা | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশিষ্টজনরা

“নিকৃষ্ট শাসন ছাড়া গণ-অভ্যুত্থান হয় না”

author
যাযাদি ডেস্ক

প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৫
ad003
অত্যন্ত নিকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা ছাড়া গণ-অভ্যুত্থান হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। আর সবথেকে নিকৃষ্ট শাসন ও অনুশোচনাহীন ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়েছে ছাত্ররা, এর থেকে বড় সফলতা আর কী হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আজ ১৬ জুলাই (২০২৬) জাতীয় প্রেসক্লাবে নীতি গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত “জুলাই গণঅভ্যুত্থানঃ সফল নাকি বেহাত?” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি সূচনা এবং সঞ্চালনা করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শাকিল আহম্মেদ এবং উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের রিসার্চ ফেলো ড. খান শরীফুজ্জামান। আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তরুণ নেতৃত্ব এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া বলেন, “জুলাই নিজেই একটি সার্থকতা। যেই পরিবারের কোনো সদস্য গুম ছিলো তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে বলবে জুলাই সফল। কালেক্টিভ জায়গা থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা থাকে বলেই প্রশ্ন রয়ে যায় এটি সফল নাকি বেহাত। তবে আমরা যে চিন্তা করি জুলাইয়ের পর সিস্টেমে পরিবর্তন আসবে, সেই পথ এখনো পাড়ি দেওয়া বাকি।”

ডাকসু প্রতিনিধি মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “আমাদের জুলাইয়ের মূল স্পিরিট ছিলো একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণ, কিন্তু সেই জায়গাটিতে আমরা হোঁচট খেয়েছি। জুলাইয়ের পর কোটার ভার সংকুচিত হয়েছে কিন্তু তদবির বাণিজ্য বন্ধ হয়নি। অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিলেও অনেকের বাকস্বাধীনতার অবনতি হয়েছে। এই অসম্পূর্ণ বিপ্লবকে পূর্ণ করতে আমাদের কাজ করতে হবে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আরিফ সোহেল বলেন, “আমাদের বুঝতে হবে মুভমেন্টের হাত অনেকগুলো। যখন কোনো একপক্ষ এটি নিয়ে নিতে চায় তখনই জুলাই বেহাত হওয়ার প্রশ্ন আসে। যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের দাবিগুলো পরবর্তীতে প্রতিফলিত হয়নি। তবে এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, যারা এটা কুক্ষিগত করতে চায় তারা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে, আর যারা বৈষম্যের শিকার তারা শক্তিশালী হচ্ছে।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার বলেন, “যেকোনো একটা ঘটনাকে ইতিহাস হওয়ার জন্য সময় দিতে হয়। দশ বছর পরে আমরা বিবেচনা করতে পারবো যে এটা সফল নাকি বেহাত। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে আগের আন্দোলনগুলোর চেয়ে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান অনেকটা সফলতার পথে রয়েছে।”

আলোচনায় সাবেক ছাত্রনেতা রাগীব নাঈম বলেন, “জুলাই কোনো সরকার পতনের আন্দোলন নয়, এটি একটি গণঅভ্যুত্থান। কিন্তু জুলাইয়ের পর জনআকাঙ্ক্ষা এবং জবাবদিহিতার পুরো প্রতিফলন ঘটেনি।” অন্যদিকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি বলেন, “২০১৮ সালের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিলো ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান। এখন অনেকেই দলের মধ্যে থেকেও প্রতিবাদ করতে পারছেন, এটাকে আমি গণঅভ্যুত্থানের সফলতা বলবো।”

সভায় সাংবাদিক আশরাফ কায়সার আরও বলেন, “জুলাই তখন ব্যর্থ যখন অপরাধীদের বিচার হয় না এবং জুলাই কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না। তবে জুলাই আমাদের রাজনীতিমনস্ক হতে শিখিয়েছে। যতোদিন বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে, ততোদিন জুলাই তার গৌরব নিয়ে বেঁচে থাকবে।”

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ঈসা ইবনে বেলাল।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT