ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তার খালের নবজন্ম: পীরগঞ্জে কৃষিতে নতুন প্রাণ, ফিরেছে জীববৈচিত্র্য

author
পীরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৭ জুলাই, ২০২৬ সকাল ৬:০৯
ad003
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ও সেনগাঁও ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া মৃত প্রায় ‘অন্তার খাল’ পুনঃখননে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। বৃদ্ধি পেয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এর দীর্ঘ মেয়াদী সুফল পেতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ১১ কিঃমিঃ দীর্ঘ অন্তার খালটি মাটিতে ভরাট এবং অবৈধ দখলের কারণে প্রায় মৃত অবস্থায় ছিল। খালের ভড়াট করা অংশে শুস্ক মৌসুমে চাষ হতো গম, ভুট্টা ও আখ আর বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় খালের দুধারে বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা। পানিতে ডুবে হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হত। দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণী প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছিল।

সরকারি উদ্যোগে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে সম্প্রতি খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকায় খননকাজ শেষ হওয়ার পর প্রথম বর্ষাতেই খালটি পানিতে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। খালের দুই পাড়ে লাগানো সবুজ ঘাস এবং নতুন রোপণ করা কৃষ্ণচুড়া ও সুপারী গাছের সারি এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। দুই পাড়ে হাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষিতে ফিরেছে স্বস্তি। পানিতে ডুবে ফসল নষ্ট হওয়ার শংকা দুর হয়েছে। খালে শোল, টাকি, পুঁটি, খলিসা, কই ও শিং মাছের দেখা মিলছে। খালের পানিতে মাছ চাষ ও হাঁস পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে।

পটুয়াপাড়া গ্রামের নবাব, আব্দুর রহমান সহ অনেকে জানান, আগে পানি জমে কয়েকটি বিলের হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হত। এখন পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। পানিতে ডুবে আর ফসল নষ্ট হবে না।

আনোয়ারা বেগম, কইলী রানী সহ কয়েক জন নারী জানান, এখন খালে পানি থাকবে। সেই পানিতে তারা হাঁস চাষ করতে পারবেন।

আলমগীর হোসেন, আকরাম আলী নামে দুই যুবক জানান, মাছ চাষের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মাছ চাষ করে যুব সমাজ আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল মাষ্টার জানান, এ খালটা আমাদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছিল। খনণের ফলে এখন আশির্বাদ রুপে ফিরেছে। এর সুফল পাবে দুই ইউনিয়নবাসী।

হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন জানান, খালটি ঘিড়ে তাদের অনেক পরিক্লনা রয়েছে। দুই পাড়ে রোপন করা ৬ হাজার সুপারী গাছ এবং অন্তার ব্রীজ এলাকায় খালের শুরুতে দুই পাশে কৃষ্ণচুড়া গাছ লাগানো হয়েছে। ছোট ছোট সমিতি করে খালে মাছ ও হাঁস চাষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুপারী গাছ থেকেও আয় হবে। যা সমিতির সদস্যরা ভোগ করবেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, “অন্তার খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি এ এলাকার কৃষিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ফসলের উৎপাদন বাড়বে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার জানান, অত্যন্ত স্বচ্ছতা সাথে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এটিকে পরিবেশবান্ধব ও দুষ্টনন্দন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কৃষি সহ জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। খালে দেশী মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পুনরায় খালটি যেন ভরাট না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের খাল খনণ কর্মসূচীর আওতায় খালটি পুনঃখনণ করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। 
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT