সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় কলেজের একটি পরিত্যক্ত ঘরের উন্নয়ন দেখিয়ে সরকারি দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন বলে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
এ অভিযোগটি উঠেছে উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক বশীর আহম্মদের বিরুদ্ধে। তিনি ওই কলেজের পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি টিনের ঘরে দীর্ঘদিন ধরে কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচালনা করে আসছেন।
জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারে অবস্থিত বাদশাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক বশীর আহম্মদ গত কয়েক বছর যাবত এমপিও ভূক্ত ওই ডিগ্রী কলেজের পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘরে কলকাকলি বিদ্যাপীঠ নামে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল পরিচালনা করে আসছেন।
কিন্তু তিনি গত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ টিআর) কর্মসূচির আওতায় নির্বাচনি এলাকাভিত্তিক (এমপি) অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি,আর) উন্নয়ন ২য় ও ৩য় পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বশীর আহম্মদ নিজেই একই সাথে পৃথক দুটি প্রকল্পের সভাপতি হয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা কোনো কাজ না করেই উত্তোলন করে নিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে কলকাকলী বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ বশীর আহম্মদ উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুঃজাকির হোসেনেরজন্য যোগসাজশে জাল স্বাক্ষরে কোনো কাজ না করেই ওই দুইটি প্রকল্পের ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনি উত্তোলন করে নেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানটির কোনো সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। তখন একটি কক্ষে আমান উল্লাহ নামে কলকাকলী বিদ্যাপীঠের এক সহকারী শিক্ষককে একা বসে থাকতে দেখা যায়। ওই বিদ্যাপীঠের বাকি সব ক'টি কক্ষই ছিল তালাবদ্ধ। এসময় তার সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছুক্ষণ আগেই বিদ্যালয় ছুটি হয়েছে।
আর বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ বশীর আহম্মদ স্যার এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটিতে রয়েছেন বলে জানান তিনি। এসময় প্রকল্পের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবনা। আপনি অধ্যক্ষ স্যারের সাথে কথা বলেন। তবে এবার বিদ্যালয়ের ছয়টি কক্ষে ছয়টি নতুন ফ্যান লাগানো ছাড়াও ঘরের সিলিং ও দরজা-জানালা মেরামত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও কলকাকলী বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ এবং দুইটি প্রকল্প কমিটির সভাপতি বশীর আহম্মদের সাথে মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দুইটি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন বলে স্বীকার করে বলেন, একটি প্রকল্পের টাকা বিদ্যাপীঠের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে। তবে আরেকটি প্রকল্পের টাকা আমি পিআইও সাহেবের সুপারিশে উত্তোলন করে টাকা আমার একাউন্টে রেখেছি। পরবর্তীতে উক্ত টাকা তারা যে প্রতিষ্ঠানের কাজেই লাগাতে চান আমি তা দিয়ে দেব।
এ বিষয়ে জানতে বাদশাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন কান্তি তালুকদার বলেন, কলেজের পরিত্যক্ত ওই ঘরটিতে আমি এখানে যোগদানের অনেক আগে থেকেই তারা একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এবার ওই প্রতিষ্ঠানটির মেরামতের জন্য এমপি সাহেব নাকি ১ লাখ ২০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এ বিষয়টি তারা মৌখিকভাবে আমাকে জানিয়েছেন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে দুইটি প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুঃজাকির হোসেন ওই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য দুইটি প্রকল্প দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বরাদ্দের টাকা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত না হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তবে বরাদ্দকৃত ওই দুইটি প্রকল্পের টাকা প্রতিষ্ঠানের কাজে যথাযথ ব্যয় করা না হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।