ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুধু জিয়াউর রহমানকে নয়, মোজাফফররা বাংলাদেশের সোনালী ভবিষ্যতও হত্যা করেছে

author
আহসান হাবিব বরুন

প্রকাশিত : ১৭ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫
ad003
দীর্ঘ ৪৫টি বছর। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের ইতিহাসের পাতায় ৪৫ বছর কম সময় নয়। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যে কলঙ্ক, যে অপূর্ণতা এবং যে তীব্র বেদনা এ দেশের বিবেকবান প্রতিটি মানুষকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে, অবশেষে তার আংশিক হলেও অবসান ঘটেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মহানায়ক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং এ দেশের আপামর জনতার হৃদয়ের স্পন্দন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অন্যতম খুনি সাবেক মেজর মোজাফফর হোসেন (অব.) অবশেষে গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মধ্যরাতে তার এই গ্রেফতারের খবরটি যখন গণমাধ্যমে আসে, তখন প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের বুকে যুগপৎ স্বস্তি এবং তীব্র ক্ষোভের এক মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

স্বস্তি এই কারণে যে, দেরিতে হলেও ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত ও ট্রাজিক হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান ঘাতক আইনের মুখোমুখি হয়েছে। আর ক্ষোভ এই কারণে— কী অদ্ভুত এক সেলুকাস এই দেশ! যে মানুষটি এই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন, যে মানুষটি মাত্র সাড়ে তিন বছরের সংক্ষিপ্ত শাসনামলে ভঙ্গুর এক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছিলেন, তাকে বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়া খুনি মোজাফফর দীর্ঘ ৪৫ বছর এই স্বাধীন বাংলাদেশের আলো-বাতাস গায়ে লাগিয়ে ঘুরে বেরিয়েছে! পরিচয় গোপন করে হোক কিংবা প্রকাশ্যেই হোক, এই ঘাতকের এতগুলো বছর বেঁচে থাকাটাই ছিল এই জাতির জন্য এক চরম দুর্ভাগ্যের এবং অপমানের।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ১৯৮১ সালের ৩০শে মে ভোরের সেই কালরাত্রিতে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে মোজাফফর এবং তার বিপথগামী সহযোগীরা কি কেবল একজন ব্যক্তি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল? না। তারা সেদিন হত্যা করেছিল একটি উদীয়মান রাষ্ট্রের অমিত সম্ভাবনাকে, তারা স্তব্ধ করে দিয়েছিল কোটি কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির স্বপ্নকে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, সেদিন মোজাফফররা কেবল জিয়াকে নয়, বরং বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সোনালী ভবিষ্যৎকেই নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যার তুলনা কেবল তিনি নিজেই। তিনি ছিলেন একাধারে অসাধারণ দেশপ্রেমিক, সৎ, তুখোর মেধাবী, দূরদর্শী এবং এক আপসহীন কর্ম-উদ্দীপক নেতা। উঁচু নৈতিক মানদণ্ডের কারণে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যে সততার নজির রেখে গেছেন, তা সমকালীন বিশ্ব রাজনীতিতেও বিরল। ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থেকেও তিনি যে সাদামাটা ও মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন, তা আজও এ দেশের মানুষের কাছে কিংবদন্তি।

একটি রাষ্ট্রপ্রধানের পদ যে কেবল ড্রয়িংরুমের বিলাসিতা কিংবা কাগুজে বক্তৃতার মঞ্চ নয়, তা তিনি হাতে-কলমে প্রমাণ করেছিলেন। কোদাল হাতে খাল খনন কর্মসূচি থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কৃষকের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা— এই ছিল জিয়ার কর্মক্ষেত্রের পরিধি। তার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না, ছিল না কোনো ক্ষমতার অহংকার। তার চোখজুড়ে ছিল কেবল একটি স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশের স্বপ্ন। তিনি যখন দেশের মানুষকে ডাক দিতেন, "আসুন, দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে এই দেশকে গড়ে তুলি," তখন সেই ডাকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কোটি মানুষের হৃদয়ে দেশ গড়ার এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা তৈরি হতো।

১৯৭৫ সালের পরবর্তী পটভূমিতে জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন, তখন বাংলাদেশ ছিল এক চরম নৈরাজ্য, দুর্ভিক্ষ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে "তলাবিহীন ঝুড়ি" হিসেবে পরিচিত এক ব্যর্থপ্রায় রাষ্ট্র। সেখান থেকে শুরু করে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি এই দেশকে বিশ্বের দরবারে এক অভাবনীয় সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন।

জিয়াউর রহমান অনুদান-নির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক মডেল চালু করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাক দেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে লাখ লাখ একর অনাবাদী জমি চাষের আওতায় আসে। এর ফলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে চাল রপ্তানির যুগে পদার্পণ করার গৌরব অর্জন করে।

আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল দুটি স্তম্ভ— তৈরি পোশাক শিল্প (গার্মেন্টস) এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স— এই দুটিরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল প্রেসিডেন্ট জিয়ার দূরদর্শী হাত ধরে। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে পাঠানোর সরকারি উদ্যোগ নেন এবং বেসরকারি উদ্যোগে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠার দুয়ার উন্মোচন করেন।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে তিনি এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে, পরাশক্তিগুলোও বাংলাদেশকে সমীহ করতে বাধ্য হতো। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ, ওআইসি (OIC)-তে সক্রিয় ও মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক - SAARC) গঠনের রূপরেখা প্রণয়ন ছিল তার কালজয়ী কূটনৈতিক দূরদর্শিতার ফসল।

যে দেশকে বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা এক সময় অবজ্ঞা করতেন, সেই দেশ মাত্র সাড়ে তিন বছরে জিয়ার নেতৃত্বে এশিয়ার এক উদীয়মান ব্যাঘ্র (Rising Tiger) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

কিন্তু এই অভাবনীয় অগ্রগতি সইতে পারেনি এ দেশের ভেতরে ও বাইরে লুকিয়ে থাকা দেশদ্রোহী চক্র। ১৯৮১ সালের ২৯শে মে এক শান্তিকালীন ও গঠনমূলক সফরে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সাথে দিনভর বৈঠক ও জনসংযোগ শেষে ৩০শে মে গভীর রাতে তিনি যখন সার্কিট হাউসের কক্ষে ঘুমাতে যান, তখন হয়তো তার মনে ছিল আগামী দিনের আরও নতুন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা।

কিন্তু ভোররাতে ধেয়ে আসে অন্ধকারের অবয়বরা। একদল চরম বিপথগামী ও উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তা ইতিহাসের অন্যতম জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী, এই হামলার সম্মুখভাগের মূল হোতা ছিল এই মোজাফফর হোসেন। সে-ই প্রথম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে চিনে নেয় এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই এই মহান নেতার বুক লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়। যে হাতটি এ দেশের স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য মাইক্রোফোন ধরেছিল, যে হাতটি কোদাল ধরে দেশকে সবুজ শ্যামল করতে চেয়েছিল, সেই পবিত্র বুকে সরাসরি বুলেট বিদ্ধ করে মোজাফফর প্রমাণ করেছিল সে কোনো সৈনিক নয়, সে ছিল এক পৈশাচিক খুনি।

হত্যার পর এই মোজাফফরই জেনারেল মঞ্জুরকে ফোন করে দম্ভের সাথে জানিয়েছিল— ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’। মাত্র একটি বাক্যে তারা সেদিন স্তব্ধ করে দিয়েছিল একটি ১৬ কোটি মানুষের আশার প্রদীপকে। 

প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যার মাধ্যমে মোজাফফররা কেবল একজন জনপ্রিয় নেতাকে সরিয়ে দেয়নি, তারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার চাকাটিকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমাদের উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখতে হতো না; বাংলাদেশ হয়তো আরও ২০ বছর আগেই বিশ্বের বুকে উন্নত, স্বাবলম্বী এবং প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ এক পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো।

জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ঘাতকরা এতটাই নিষ্ঠুর ও অমানবিক ছিল যে, তার মরদেহকে পর্যন্ত যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। অত্যন্ত গোপনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় তাকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। তারা ভেবেছিল, লাশ লুকিয়ে ফেললে জিয়ার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে। কিন্তু তারা জানত না, জিয়ার কবর রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ে নয়, এ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় রচিত হয়ে গেছে।

পরবর্তীতে সেনা অভিযানে এই বিদ্রোহ দমন করা হয়। তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আল্টিমেটামের পর ঘাতক চক্রের অনেকেই পালিয়ে যায় বা নিহত হয়। জেনারেল মঞ্জুর ফটিকছড়ির চা বাগান থেকে আটক হওয়ার পর নিহত হন। পরবর্তীতে সামরিক আদালতের মাধ্যমে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি গুলি চালানো মোজাফফর হোসেন ও এসএম খালেদ তখন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

দীর্ঘদিন ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় বা আত্মগোপনে থাকার পর, ১৯৯৮ সালের দিকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে মোজাফফর আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরিচয় গোপন করে গত ৪৫ বছর ধরে সে এই দেশেরই আলো-বাতাস ভোগ করেছে, আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়েছে। এটি আমাদের বিচারব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তার এক চরম ব্যর্থতার দলিল হিসেবেই থেকে যাবে।

৪৫ বছর পর এই ভয়ংকর খুনি মোজাফফরের গ্রেফতার নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। আইনের দীর্ঘ হাত যে শেষ পর্যন্ত ঘাতককে ছুঁতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ। তবে একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে মনের ভেতরের ক্ষোভটুকু চেপে রাখা অসম্ভব। যে খুনি একটি দেশের অগ্রযাত্রাকে থমকে দিল, যে খুনি কোটি মানুষের পিতৃতুল্য এক মহান নেতাকে সশরীরে হত্যা করল, সে জীবনের শেষ অপরাহ্ণে এসে ৪৫ বছর পরম আয়ু কাটিয়ে ধরা পড়ল— একে কি পূর্ণাঙ্গ বিচার বলা চলে?

এই ঘাতকের জন্য প্রচলিত মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসিও আমার দৃষ্টিতে যথেষ্ট নয়। কারণ, সে তো কেবল একজন মানুষের প্রাণ নেয়নি। সে জিয়ার সাথে সাথে এই দেশের কোটি তরুণের ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং জাতীয় আত্মমর্যাদাকে হত্যা করেছিল। জিয়ার অবর্তমানে বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং বিভাজনের আবর্তে হাবুডুবু খেয়েছে, তার জন্য এই মোজাফফর এবং তার নেপথ্যের কুশীলবরাই দায়ী।

দেরিতে হলেও খুনি মোজাফফরের এই গ্রেফতার দেশের ইতিহাসে এক স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তাকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কোর্ট মার্শাল ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য। আমাদের প্রত্যাশা, সেনা আইনের অধীনে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এবং দৃষ্টান্তমূলকভাবে এই ঘাতকের চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

পরিশেষে বলতে চাই,মোজাফফরের বিচার কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক বড় দায় মেটানোর প্রয়াস। এই বিচারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এবং দেশের ভেতরের সকল ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে এই বার্তা স্পষ্ট হওয়া উচিত যে— এই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও বীরদের গায়ে হাত তুললে, এই দেশের ভবিষ্যৎকে চোরাগুপ্তা হামলায় হত্যা করতে চাইলে, আজ হোক কিংবা ৪৫ বছর পর হোক, বাংলার মাটিতে তার বিচার হবেই।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ, তার সততা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন চিরকাল অম্লান থাকবে। কারণ তিনি বাংলাদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ের রাজা।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন। 
ই-মেইল: [email protected] 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT