তিন মাসের প্রবেশ নিষিদ্ধ সময়েও সুন্দরবনে থেমে নেই অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণ। বন বিভাগের অভিযানে সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের কোবাদক স্টেশনের অধীন বাটলু নদীর কুনচির খালসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি ডিঙি নৌকা, ১৭০ কেজি জীবিত কাঁকড়া এবং কাঁকড়া ধরার বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর রাতে কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে বাটলু নদী, আড়পাঙ্গাশিয়া নদী এবং আশপাশের বিভিন্ন খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বন বিভাগ জানায়, অভিযানের সময় ১৭০ কেজি জীবিত কাঁকড়া, চারটি নৌকা এবং ৯৫ পিস নিষিদ্ধ ‘আটন’সহ কাঁকড়া ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে কাঁকড়া আহরণে জড়িত ব্যক্তিরা গহীন বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ এবং সব ধরনের পাস-পারমিট তিন মাসের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ সময়ে বন ও নদ-নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের প্রবেশও সীমিত রাখা হয়েছে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু চক্র গোপনে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে কাঁকড়া এবং মাছ আহরণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা বন বিভাগের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের অনুমতিক্রমে জব্দ করা ১৭০ কেজি জীবিত কাঁকড়া পুনরায় সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
কাঁকড়া অবমুক্তকরণের সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় কুমার পাল, কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির হোসেন, কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আনিসুর রহমানসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রবেশ নিষিদ্ধ সময়ে সুন্দরবনে অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, বিষ প্রয়োগ এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অবৈধ বনজ সম্পদ আহরণে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।