ঢাকা | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিন্তা, চেতনা ও অভ্যাসে মানুষের অস্তিত্ব

author
এ ইউ দৌলা

প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
ad003
সতেরো শতকের ইউরোপীয় দর্শনের আকাশে রেনে দেকার্ত ছিলেন এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। তার দর্শনের বিখ্যাত ঘোষণা “Cogito, ergo sum” বা “আমি চিন্তা করি, তাই আমি অস্তিত্বশীল”। বাক্যটি মানব চেতনার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। সব কিছুকে, এমনকি নিজের অস্তিত্বকেও সন্দেহ করে সত্যের অনুসন্ধানে নেমে তিনি আধুনিক যুক্তিবাদী দর্শনের বীজ বপন করেছিলেন। আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনের জনক হিসেবে পরিচিত এই মহান চিন্তাবিদের দূরদর্শিতা আজও আমাদের আলোকবর্তিকা হয়ে পথ দেখাচ্ছে। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, ইন্দ্রিয় দিয়ে দেখা বহির্জগত ভ্রম বা মায়া হতে পারে, কিন্তু সেই সংশয়ের মুহূর্তেও যে 'আমি'র অস্তিত্ব আছে, তা অনস্বীকার্য।

কিন্তু বিজ্ঞানের এই স্বর্ণযুগে দাঁড়িয়ে যখন আমরা মানুষের মস্তিষ্কের ৮৬ বিলিয়ন নিউরনের জটিল জাল বিন্যাস নিয়ে ভাবছি, তখন দেকার্তের সেই দর্শনের মুখোমুখি হওয়া অনিবার্য। তার বুদ্ধিবৃত্তিক সাহসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই, আজ বিজ্ঞানের চশমা দিয়ে তার দর্শনের সামনে আমি তিনটি প্রশ্ন রাখতে চাই। আমার জিজ্ঞাসা মূলত তার সেই ‘চিন্তাকারী সত্তা’র স্বকীয়তা এবং তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে।
প্রথম প্রশ্ন: দেকার্ত বলেছেন, মানুষ চিন্তা করতে সক্ষম এবং এই চিন্তা করতে পারাটাই তার অস্তিত্বের প্রমাণ। তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন, ‘আমি কি সত্যিই আছি নাকি কোনো বিরাট শক্তির মন্ত্রপুত হয়ে দীর্ঘ কোনো স্বপ্ন দেখছি?’  তার ব্যাখ্যা ছিল যে, এই চিন্তা বা সংশয় করতে পারাটাই প্রমান করে যে, আমার অস্তিত্ব আছে।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, স্বপ্নের মাঝেও কি আমরা চিন্তা করি না বা কোনো পরিকল্পনা করি না? প্রায়ই তো এমন হয় যে, আমরা স্বপ্নের জগতেই কোনো কিছু নিয়ে ভাবছি। তাহলে কেবল চিন্তা করার সক্ষমতা কীভাবে আমার অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ হতে পারে? একটি সদ্যোজাত শিশু, যার মধ্যে এখনো চিন্তা করার সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি (যদিও ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে সাথে সে চিন্তা করতে পারবে), সেই শিশুর অস্তিত্বকে কি তবে অস্বীকার করা হবে? কিংবা মানুষ যখন গভীর ঘুমে থাকে, অথবা অপারেশন টেবিলে অচেতন অবস্থায় থাকে, যখন মস্তিষ্ক কোনো কিছু অনুভব করে না বা চিন্তা করতে অক্ষম থাকে, তখন কি সেই মানুষের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়?
দ্বিতীয় প্রশ্ন: রেনে দেকার্ত আজীবন সত্যের অনুসন্ধান করেছেন, কিন্তু ‘সত্য’ বলতে আসলে কী বোঝায়? জ্ঞানতাত্ত্বিকরা সত্যকে তিনটি শর্তে বিচার করেন, যা ‘জাস্টিফাইড ট্রু বিলিফ’ (Justified True Belief) নামে পরিচিত। এর তিনটি ভিত্তি হলো: বিলিফ বা বিশ্বাস; এর অর্থ আপনাকে বিষয়টি সত্য বলে মেনে নিতে হবে; ট্রুথ বা সত্যতা অর্থ, যার বাস্তবতার সাথে মিল থাকতে হবে; এবং জাস্টিফিকেশন বা যৌক্তিকতা, যেখানে আপনার বিশ্বাসের পেছনে প্রমাণসাপেক্ষ কারণ থাকতে হবে। এরিস্টটলের মতে, এই জাস্টিফিকেশন আসে যুক্তি এবং অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে; যেমন, আগুন গরম এবং তা পোড়ায়; এই সাধারণ অভিজ্ঞতাই বিশ্বাসের যৌক্তিক ভিত্তি।

তবে দেকার্ত এই অভিজ্ঞতানির্ভর জাস্টিফিকেশন পদ্ধতিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না, কারণ তিনি জানতেন ইন্দ্রিয় অনেক সময় আমাদের ধোঁকা দেয়। তাই তার মতে, সত্য কেবল তাই যা মনের কাছে স্বচ্ছ এবং অস্পষ্টতামুক্ত (Clear and Distinct)। দেকার্তের কাছে জাস্টিফিকেশনের মূল ভিত্তি হলো ব্যক্তিগত বুদ্ধিবৃত্তিক নিশ্চয়তা। তার যুক্তি ছিল, কোনো কিছু অত্যন্ত স্বচ্ছ ও স্পষ্টরূপে চিন্তা করতে পারলে সেটিই সত্য। কিন্তু প্রশ্ন হল, প্রকৃতপক্ষে কিসের ভিত্তিতে মানুষ তার বিশ্বাসকে জাস্টিফাই করবে তাছাড়া ‘বিশ্বাস’ বলতেই বা কী বোঝায়?

তৃতীয় প্রশ্ন: দেকার্তের মতে, বুদ্ধি হলো মনের সেই সক্ষমতা যার মাধ্যমে আমরা এমন কিছু সত্যকে ধরতে পারি, যা সন্দেহের ঊর্ধ্বে। তিনি একে অভিহিত করেছেন 'Clear and Distinct Ideas' বা স্বচ্ছ ও স্পষ্ট ধারণা হিসেবে। কিন্তু এই ধারণা কি সত্যিই সবার কাছে একই রকম? প্রকৃতপক্ষে, এই স্বচ্ছতা বা স্পষ্টতা ব্যক্তির শিক্ষা, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং অভিজ্ঞতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যা একজনের কাছে স্বচ্ছ ও যুক্তিযুক্ত মনে হয়, অন্যজনের অভিজ্ঞতায় তা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। যদি বুদ্ধির মানদণ্ডই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবর্তিত হতে থাকে, তবে দেকার্তের সেই সর্বজনীন ‘বুদ্ধি’ আসলে কী? এটি কি কোনো সহজাত ঐশ্বরিক ক্ষমতা, নাকি নিছক আমাদের মস্তিষ্ক দ্বারা প্রক্রিয়াকৃত তথ্যের সমষ্টি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা দেকার্তের ‘আত্মা’র ধারণা থেকে বেরিয়ে মানুষের মস্তিষ্কের গঠনতন্ত্রের দিকে নজর দিতে বাধ্য হচ্ছি। দেকার্তের দর্শনে মন ও দেহ আলাদা, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, মন হলো মস্তিষ্কের একটি অবিচ্ছেদ্য কার্যপ্রক্রিয়া। এই উপলব্ধিতেই আমরা মানুষকে একটি ‘হেবিট মেশিন’ বা ‘অভ্যাস তৈরির যন্ত্র’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি।

আসলে মানুষ জন্মের সময় ‘তাবুলা রাসা’ বা অলিখিত স্লেট হিসেবে পৃথিবীতে আসে না; বরং সে তার জিনের ভেতরে আদিম সব অভ্যাসের কোড বা ‘বায়োলজিক্যাল মাইক্রো চিপ’ নিয়েই জন্মায়। এই বংশগত অভ্যাসই মানুষসহ অন্য সব প্রাণীর বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র বা দেহের প্রধান অপারেটিং সিস্টেম। এই সিস্টেম সচেতন অনুভবের বাইরে সদা সর্বদা সক্রিয়। কিন্তু শিশু যখন জন্ম নেয়, তার ব্রেইন তখন এক নতুন জগতে অসীম তথ্যের সম্মুখীন হয়। প্রতি মুহূর্তে সে তার ইন্দ্রিয় দিয়ে যে ডাটা রিসিভ করে, তা তার ব্রেইনের মধ্যে নতুন নতুন বায়োলজিক্যাল সার্কিট সৃষ্টি করে চলে। এই সার্কিটগুলোই মূলত আচরণ, চিন্তা কিংবা অনুভবের প্লাটফর্মে পরিণত হয়। যখন একই তথ্য বা একই অভিজ্ঞতা বারবার মস্তিষ্কের নিউরনে সংকেত পাঠায়, তখন সেই সংযোগগুলো ক্রমান্বয়ে মজবুত হতে থাকে। শরীর বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্রেইনের বিকাশের পাশাপাশি এই অভ্যাসের জাল বা সার্কিটগুলো নিজেদের মাঝেও মজবুত হয়ে যুক্ত হয় আর একটি অত্যন্ত জটিল কাঠামো তৈরি করে।

রেনে দেকার্ত শুধু নন, বরং জগতের সকল চিন্তাবিদই আজীবন সত্যের সন্ধানে ব্রতী ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, সত্য আসলে কী? সত্য কি কোনো বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা, নাকি কেবলই আমাদের অনুভূতির প্রকাশ? আসলে আমরা যাকে ‘সত্য’ বলে অভিহিত করি, তা মূলত আমাদের মস্তিষ্কে সেই শৈশব থেকে জমা থাকা অভিজ্ঞতার অভ্যাসের সাথে বর্তমান তথ্যের একটি তুলনামূলক ফলাফল মাত্র। যখন নতুন কোনো তথ্য আমাদের মস্তিষ্ক বা স্মৃতিতে সংরক্ষিত তথ্যের সাথে মিলে যায়, তখন আমরা সেটিকে ‘সত্য’ হিসেবে অনুভব করি; আর না মিললে সেটিকে ‘অসত্য’ বলে মনে হয়। 

আমরা চিন্তাশীল প্রাণী; কিন্তু চিন্তা করার সক্ষমতা আসলে এক অত্যন্ত শক্তিশালী মানসিক অভ্যাস। আমাদের পুরো চিন্তার জগৎ আসলে মস্তিকে জমা থাকা পূর্ব-অভিজ্ঞতার সাথে কোন বিষয়ের তুলনা করার সক্ষমতা। বিন্দু বিন্দু পানির ফোঁটা যেমন মহাসাগর সৃষ্টি করে, তেমনি আমাদের মস্তিষ্কে জমা থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তথ্য ও অভিজ্ঞতাগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন নিউরনের জগতে নিজেদের মাঝে সংযোগ সৃষ্টি করে। এই সংযোগের মাধ্যমেই আমাদের চেতনা, যুক্তির মানদণ্ড এবং সত্যের ধারণার জন্ম হয়।

বাস্তবে মানুষ হল এক বায়োলজিক্যাল হ্যাবিট মেশিন। তাই স্বপ্নের মাঝেও আমরা ভাবতে পারি, কারণ স্বপ্নের মুহূর্তটিতে আমাদের মস্তিষ্ক তার সংরক্ষিত ডাটা প্রসেস করে। স্বপ্ন দেখার মুহূর্তটিতেও আমরা অস্তিত্বশীল, কিন্তু সেই অস্তিত্ব কোনো ‘অভৌতিক আত্মা’ নয়, বরং একটি সক্রিয় ‘নিউরাল প্রসেসিং’।

শিশুর অস্তিত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন, তার জবাব হল, নবজাতক শিশুও অবশ্যই অস্তিত্বশীল। যদিও শিশু তখনও জটিল কোন চিন্তার সক্ষমতা অর্জন করেনি, কিন্তু তার ব্রেইনের সহজাত মাইক্রো-চিপগুলো তাকে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও আচরণ সৃষ্টি করে দেয়।  শিশুর সেই ক্ষুদ্র অস্তিত্ব ধীরে ধীরে অজস্র তথ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একসময় পূর্ণাঙ্গ তথ্য তুলনাকারি মেশিনে পরিণত হয়। কেবল চিন্তার সক্ষমতাই জীবনের প্রমাণ নয়; অস্তিত্ব হল একটি বায়োলজিক্যাল বাস্তবতা। গভীর ঘুম বা অচেতন অবস্থায় মস্তিস্কের সেই তুলনাকারী মেশিন নিস্ক্রিয় থাকে, এটি অনেকটা কম্পিউটারের ‘স্লিপ মোড’-এর মতো; যখন শরীর বা হার্ডওয়্যার আবার সক্রিয় হয়, তখন ডাটা প্রসেসিংও পুনরায় শুরু হয় আর আমরা তখন নিজেকে সচেতন বলে অনুভব করি।

এবার আসি বুদ্ধির বিষয়ে। বুদ্ধি হলো মস্তিষ্কে জমা থাকা সেই সব অভ্যস্ত অভিজ্ঞতা ও তথ্য, যার ভিত্তিতে ব্রেইন বিভিন্ন পরিস্থিতির  তুলনা করে, ব্যাখ্যা করে এবং সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আচরণ সৃষ্টি করে। সামাজিক পরিমণ্ডলে ব্রেইন যা কিছু যৌক্তিক বলে মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়েছে, সেই ভিত্তিতেই তারা তুলনা করার কাজটি সম্পন্ন করে। যে ব্যক্তি কোন পরিস্থিতির মোকাবেলায় তার ব্রেইনে জমা থাকা তথ্য ও অভিজ্ঞতাকে দ্রুত ব্যবহার করতে সক্ষম, আমরা তাকেই বেশি বুদ্ধিমান বলে থাকি। আমাদের মস্তিষ্কে জমা থাকা সেই অভিজ্ঞতার অভ্যস্ততা যত বেশি মজবুত হয়, সেই নির্দিষ্ট বিষয়েই আমাদের ‘Clear and Distinct Ideas’ বা স্বচ্ছ ও স্পষ্ট ধারণাগুলো তৈরি হয়।

দেকার্ত যেখানে মানুষকে এক স্বাধীন ‘চিন্তাশীল সত্তা’ হিসেবে দেখেছেন, আমরা সেখানে মানুষকে এক অত্যন্ত শক্তিশালী ‘বায়োলজিক্যাল সফটওয়্যার’ হিসেবে দেখছি। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, যদি আমরা সত্যিই আমাদের জীবনের বিস্তৃত মানসিক অভ্যাসের যোগফল হই, তবে নৈতিকতা, ধর্ম বা সামাজিক মূল্যবোধের প্রয়োজন কোথায়?

এখানেই আসে দর্শনের মুল গুরুত্ব। যেহেতু আমাদের প্রতিটি কাজ ও চিন্তা আমাদের পূর্বের অভ্যাসের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাই  গঠনমূলক অভ্যাস সৃষ্টির জন্য সমাজ আমাদের সামনে কিছু দর্শন ও নৈতিক মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এগুলো মূলত শারীরিকভাবে অত্যন্ত নাজুক মানুষ নামক প্রানিটির বেঁচে থাকার বা টিকে থাকার কৌশল। মানুষের ব্রেইন যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ডাটা থেকে তার নিজস্ব অভ্যাসের জাল বুনে চলেছে, তাই প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে ওঠে। কিন্তু মানুষের অস্তিত্ব টিকে থাকতে হলে তাকে আলাদা হওয়া নয় বরং মানুষকে  একে অপরের সহযোগী হওয়া প্রয়োজন। তারা যেন একই ধরনের জীবনবোধ ও মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে ওঠে এবং পরস্পরকে নিরাপত্তা ও সহায়তা দিতে পারে, এই প্রয়োজন থেকেই জীবনের মৌলিক অভ্যাস গঠনের বীজ হিসেবে নানা দর্শন ও ধর্ম বিশ্বাসের সৃষ্টি। 

আমাদের মন আমাদের মানসিক অভ্যাসেরই সৃষ্টি; বিশ্বস্রষ্টা আমাদের এভাবেই এক অসাধারণ কমান্ড স্ট্রাকচার দিয়ে গড়েছেন। আমরা ‘হেবিট মেশিন’,  এই উপলব্ধি আমাদের খারাপ অভ্যাসগুলোকে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে রি-প্রোগ্রাম করার পথ প্রশস্ত করে। কিন্তু যে ভালো কিংবা খারাপের কথা এখন বলছি, সেই ভালো ও মন্দের প্রকৃত সংজ্ঞা কী? তবে, এই প্রশ্নের উত্তরও লুকিয়ে আছে আমাদের সেই মানসিক অভ্যাসের মাঝেই। আজ যা কিছু ভালো বা উপকারী বলে মানুষেরা বিশ্বাস করছে, দেখা যায় সময়ের বিবর্তনে তা অনেক ক্ষেত্রে ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। অতীতে মানুষেরা যা কিছুকে অকাট্য সত্য বলে বিশ্বাস করত, কালের পরিক্রমায় এবং নতুন অভিজ্ঞতার আলোকে তা মিথ্যা বলে গণ্য হয়েছে। মানুষ হিসেবে আমরা আসলে জানি না কোনটি চূড়ান্ত সত্য, কোনটি মিথ্যা, কিংবা কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ। আমরা শুধু পরিবেশ থেকেই ভালো মন্দের ব্যবধান শিখি,  বিষয়গুলিকে মেনে নিই বা মেনে নিতে অভ্যস্ত হই। তাই সঠিক সত্য, ভালো ও মন্দের প্রকৃত রূপ অনুধাবনের জন্য অবশ্যই স্রষ্টার বাণী ও নির্দেশনার প্রয়োজন।
(লেখক ও মাইন্ড-ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষক)

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT