ঢাকা | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবদলের স্মরণ সভায় রিজভীর প্রশ্ন: হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর মোজাফ্ফর কোথায় ছিলেন

author
যাযাদি রিপোর্ট

প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯
ad003
প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তুলে বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে ৪৫ বছর পর মেজর (অব.) মোজাফ্ফর হোসেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এত বছর মেজর মোজাফ্ফর কোথায় ছিলেন এবং দেশের ভেতরে কিংবা বিদেশে কারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই)  রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ ভবনে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন অভিযুক্তকে চার দশকেরও বেশি সময় পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কোথায় অবস্থান করেছেন, কারা তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে এবং কীভাবে আইনের আওতার বাইরে ছিলেন, এসব বিষয়ে জাতির সামনে পরিষ্কার ব্যাখ্যা আসা প্রয়োজন।

রিজভীর দাবি, সে সময় তিনি বিদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং অস্ত্রও পেয়েছিলেন। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, সেটিও এখন আলোচনায় আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্দোলনের সময় মুগ্ধ, ওয়াসিফ, আবু সাঈদসহ বহু শিক্ষার্থী ও তরুণের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী পরে ভারতে পালিয়ে গেছেন, তাদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, সেই প্রশ্নেরও জবাব চায় দেশের মানুষ।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, কোনোভাবেই হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও ধৈর্যের ফল একদিন অবশ্যই আসে।

তিনি বলেন, ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ, এসবই প্রমাণ করে যে আত্মত্যাগ কখনও বিফলে যায় না।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়ের পথে যারা অবিচল থাকে, শেষ পর্যন্ত তারাই সফল হয়। তাই দলের আদর্শ ধারণ করে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতা সম্প্রসারণ এবং কৃষক কার্ড চালুর মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এসব কর্মসূচির সুফল মানুষের কাছে পৌঁছালে মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর মতো ত্যাগী নেতাদের আত্মদান আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রবাসজীবন ও নির্যাতনের পর দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ কারণে নেতাকর্মীদের তার নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলো সেই চেতনার ধারক। বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই দলটির জন্ম। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি কোনো আপস করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল, ১ম যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল সহ যুবদলের সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাতে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি প্রার্থনা করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT