টাকার বিনিময়ে এক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত তিন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চাকরিচ্যুতরা হলেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া, আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোণা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী সোমবার তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, কলমাকান্দা উপজেলার রামনাথপুর পাগলা এলাকায় অবস্থানরত এক রোহিঙ্গাকে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে এনআইডি ও পরে পাসপোর্ট সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগ ওঠে। একই ধরনের অভিযোগ নেত্রকোণা সদরেও আরেক রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরিকে কেন্দ্র করে সামনে আসে। এসব ঘটনায় নির্বাচন অফিসের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশের অভিযোগ ওঠে।
গত জানুয়ারিতে বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন তদন্তের নির্দেশ দেয়। ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পান। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত তিন কর্মীর চাকরি বাতিল করা হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, “চাকরিচ্যুত তিনজন নির্বাচন কমিশনের স্থায়ী কর্মচারী নন। তারা একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসারে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলায় রোহিঙ্গাদের এনআইডি সংক্রান্ত আরও যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে।”
এদিকে চাকরিচ্যুত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়ার বিরুদ্ধে এক সাংবাদিককে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার নেত্রকোণা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের নেত্রকোণা প্রতিনিধি ইবাদ হোসেন।
তবে কাঞ্চন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, চাকরিচ্যুতির খবর জানার পর মানসিক চাপে ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তিনি সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় কথা বলেছেন। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।