বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপণের আগেই বিস্তীর্ণ কৃষিজমি কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে। বিশেষ করে নিচু এলাকার জমিগুলোতে কচুরিপানার ব্যাপক বিস্তারে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত শ্রম ও উৎপাদন ব্যয়ের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, কচুরিপানার বিস্তার রোধে কৃষি বিভাগের কার্যকর পরামর্শ ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং আমন চাষে স্বস্তি ফিরবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিতে প্রতিবছরের মতো এবারও কচুরিপানার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। জমি প্রস্তুত করে ধানের চারা রোপণের আগে কৃষকদের আগাছা দমনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেকেই কীটনাশক প্রয়োগ করে কচুরিপানা দমন করলেও কিছুদিন পর আবারও জমিতে নতুন করে কচুরিপানা জন্ম নিচ্ছে।
উপজেলার ভেলনা গ্রামের মেহেদী হাসান,দেবখণ্ড গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান, কোলগ্রামের শাহাজাহান আলী ও ফেঁপীড়া গ্রামের মুকুল দাস জানান, প্রতি বছর আমন মৌসুমে তাদের জমিতে কচুরিপানার উপদ্রব দেখা দেয়। কীটনাশক প্রয়োগে সাময়িকভাবে দমন করা গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার কচুরিপানা জন্মাতে শুরু করে। এমনকি বোরো মৌসুমেও ধানের চারা বড় হওয়ার পর ক্ষেতে কচুরিপানা দেখা যায়, যা ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে।
তারা আরও বলেন, বিঘার পর বিঘা জমি থেকে হাতে কচুরিপানা তুলে ফেলা প্রায় অসম্ভব। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ধরনের আগাছানাশক ব্যবহার করতে হয়। এতে কচুরিপানা পচে গেলেও কিছুদিন পর আবারও জন্মায়। কয়েক বছর ধরে এ সমস্যার কারণে তারা কায়িক পরিশ্রমের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, “কচুরিপানা অত্যন্ত শক্তপ্রাণ আগাছা। তাই আগাছানাশক প্রয়োগে সাময়িকভাবে দমন করা গেলেও পুনরায় জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। তবে জমি থেকে শিকড়সহ কচুরিপানা তুলে অপসারণ করা গেলে এর বিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তুলে আনা কচুরিপানা শুকিয়ে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করলে কৃষক উপকৃত হবেন।”