খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্যাটাগরির সদস্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে সদস্য করার চেষ্টা ও নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ তুলে ৫৭ জন অভিভাবক রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জমা দেওয়া ওই আবেদনে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ কামাল একটি "পকেট কমিটি" গঠনের উদ্দেশ্যে তার পছন্দের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল বাসারকে প্রতিনিধি হিসেবে সুপারিশ করেছেন। অথচ তিনি অবসর গ্রহণের পর থেকে পরিবারসহ খুলনা শহরে বসবাস করছেন। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় নিয়মিত বসবাসকারী আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাকে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের সার্বক্ষণিক তদারকি, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের স্বার্থে বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার নিকটবর্তী স্থায়ী বাসিন্দা একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে এসএমসির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনটির অনুলিপি খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত ২০ জুলাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুহাম্মাদ আবুল বাসারও একই বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তিনি বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ২০২৩ সালে জাকারিয়া শিক্ষা নিকেতন থেকে সহকারী শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা) পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাকে উপেক্ষা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের পছন্দের অন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে গোপনে সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে সমঝোতার লক্ষ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে একক প্রার্থী নির্ধারণে ঐকমত্য হয়নি। তারপরও প্রধান শিক্ষক পূর্বের প্রার্থীর নামই বহাল রেখে সুপারিশ পাঠান।
অভিযোগকারী মুহাম্মাদ আবুল বাসার বলেন, “প্রধান শিক্ষক শুরু থেকেই অনিয়ম করে চলেছেন। তিনি নীতিমালার নির্দেশনা ও অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে খামখেয়ালিভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সমঝোতা সভায় আমি অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করিনি। অথচ একতরফাভাবে অন্যজনের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। অভিভাবকদের সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমাকে চূড়ান্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ কামাল বলেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল বাসারের নাম বিবেচনায় নেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে আরও দুইজনের আবেদন গ্রহণ করা হয়। তিনজনকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। একজন প্রার্থী আবুল বাসারকে সমর্থন করলেও মুহাম্মাদ আবুল বাসার কাউকে সমর্থন করেননি। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হওয়ায় আবুল বাসারের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।”
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৃন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, “নীতিমালায় কিছু অস্পষ্টতা থাকায় সবাইকে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সুন্দরভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।”
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, “নীতিমালা অনুযায়ী ক্যাচমেন্ট এলাকার ভেতর থেকে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অথবা সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীকে এসএমসির সদস্য করা যাবে। তবে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকলে কীভাবে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে, সে বিষয়ে নীতিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তাই সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত সম্ভব না হলে বিষয়টি লিখিতভাবে পাঠাতে বলা হয়েছে। পরে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”