অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগে চার দিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড শেষ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে খুলে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দের মধ্যস্থতায় ভূমির মালিকেরা আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করে গ্যাস ফিল্ডের মূল ফটকের তালা খুলে দেন। তবে তাঁদের ভাষ্য, এবার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় বিষয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে ইউএনও গ্যাস ফিল্ডে গিয়ে ভূমির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তাঁর উপস্থিতিতেই গ্যাস ফিল্ডের তালা খুলে দেওয়া হয়। এ সময় ভূমির মালিকদের প্রতিনিধি ও জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মোস্তাফা আহমদ, যুবনেতা নুরুল হুদা, মিজানুর রহমানসহ অন্য ভূমির মালিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত সোমবার (২০ জুলাই) অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবিতে গ্যাস ফিল্ডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ভূমির মালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) জকিগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর এলাকায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর প্রায় ১৬ কিয়ার ভূমি অধিগ্রহণ করলেও দীর্ঘ নয় বছরেও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আগেই গ্যাস ফিল্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ভূমির মালিকেরা কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলেও বছরের পর বছর ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সম্প্রতি ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক হলেও কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় তাঁরা তালা দেওয়ার কর্মসূচি পালন করেন।
ভূমির মালিকদের প্রতিনিধি ইকবাল আহমদ তাপাদার বলেন, বর্তমান বাজারদরের তুলনায় জমির মূল্য অনেক কম নির্ধারণ করা হয়েছে। ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দাবি অব্যাহত থাকবে। তবে ইউএনও আগামী ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশ্বাস দেওয়ায় আপাতত আন্দোলন স্থগিত রেখে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ বলেন, ভূমির মালিকদের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিপূরণের চেক তাঁদের হাতে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস ফিল্ডের তালা খুলে কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও এখন ভূমির মালিকদের দৃষ্টি প্রশাসনের দেওয়া ২০ দিনের প্রতিশ্রুতির দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পরিশোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তাঁরা পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।