কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা মৎস্য বিভাগের অভিযানে উন্মুক্ত জলাশয় থেকে ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয় এবং জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা।। একই সঙ্গে ইলেকট্রোফিশিং, কারেন্ট জাল ব্যবহার এবং জলাশয়ে অবৈধ বাঁধ ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।এ সময় সহযোগিতা তাকে করেন কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ।
আজ দুপুরে উপজেলার হারতা বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল ও বোডা জাল জব্দ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে কটিয়াদী পৌরসভার স্বনির্ভর বাজার থেকে কুমারঘাতি ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত জলাশয়ে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ, প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং অবৈধ উপায়ে মাছ নিধন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। অভিযান চলাকালে জলাশয়ে পেতে রাখা ৫০টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩৫০ মিটার এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব জাল এমনভাবে তৈরি, যা পানিতে থাকা ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, মাছের পোনা ও ডিম নির্বিচারে আটকে ফেলে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয় এবং জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল, কারেন্ট জাল এবং ইলেকট্রোফিশিংয়ের ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া বলেন, দেশের মূল্যবান মৎস্যসম্পদ রক্ষা, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি (রিং) জাল, কারেন্ট জাল এবং ইলেকট্রোফিশিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের ডিম, রেণু ও ছোট মাছ নির্বিচারে ধ্বংস হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আপস করবে না। যারা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে বা ইলেকট্রো ফিশিংয়ের মাধ্যমে উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ বিনষ্ট করবে, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাকৃতিক জলাশয় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।