ঢাকা | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক রিসার্চ (সিএসআর) আয়োজিত

‘লজিস্টিকস খাতে দেশীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা ও নীতি সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

author
যাযাদি রিপোর্ট

প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮
ad003
বাংলাদেশ বছরে কমপক্ষে ৯ বিলিয়ন ডলার ফ্রেইট ব্যয় পরিশোধ করে। যার মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ পায় বাংলাদেশী পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজগুলো। একেবারে সামান্য। বিদেশিরার ফ্রেইট আয়ের ৮০ শতাংশ নিয়ে যায়।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে একটি মিলনায়তনে সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক রিসার্চ (সিএসআর) আয়োজিত ‘লজিস্টিকস খাতে দেশীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা ও নীতি সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ ছিল ৪৮টি। যা ২০২১ সালে ৮০টিতে উন্নীত হয়। এসব জাহাজের আয় দেশে থাকে। বিশাল কর্মসংস্থান হয়। বিদেশিরার ফ্রেইট আয়ের ৮০ শতাংশ নিয়ে যায়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী বিদেশি জাহাজ মালিকানা ৪৯ শতাংশ এবং দেশীয় মালিকানা ৫১ শতাংশ চালু রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নীতিমালার অর্ধেক প্রয়োগ রয়েছে। যা দেশীয় জাহাজ শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। এই নীতি পরিবর্তন করে দেশীয় অংশ ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ এবং বিদেশি ৪৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশীয় উদ্যোগকে পেছনে রেখে এমন নীতিগত সুবিধা দেওয়া উচিত হয় না। বিনিয়োগ যৌথ অঙ্গীকারের সঙ্গে যতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। বিদেশি অংশীদারিত্বযুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যূনতম শর্তকে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধিত মূলধন বাধ্যতামূলক করা দরকার, যার একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রযুক্তিগত, কারিগরি সরঞ্জাম ও পরিচালন-ব্যবহৃত প্রকৃত বিনিয়োগ হিসেবে দেখাতে হবে। যৌথ উদ্যোগ কেবল বিদেশি কনসোর্টিয়াম লাইসেন্সধারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনুমোদন করা, যাতে প্রকৃত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা স্থানান্তর নিশ্চিত হয়।

বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (মার্চেন্ট) আইন, ২০১৯ কার্যকর হওয়ার পর দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা ২০১৯ সালের ৪৮টি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৮০টিতে উন্নীত হয়। সিটিজেন এভিয়েশন আইন অনুযায়ী কোনো বিদেশী এয়ারলাইনের অপারেটরকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক সেবা দিতে হলে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো এজেন্ট নিয়োগ করতে হয় যা বাংলাদেশে নিবন্ধিত এবং যার শতভাগ মালিকানা বাংলাদেশি নাগরিকের। এই বিধানের ফলে দেশে একটি কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক দেশীয় জিএসএ শিল্পের বিকাশ ঘটেছে।

সংসদ সদস্য ফজলে হুদা জানান, বিদেশের ৪০ শতাংশ ফ্রেইট মালিকানা রাখা উচিত না। লজিস্টিক ব্যবসা এভাবে চলাটা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়। বিদেশিদের হয়ে অল্প টাকায় মালিকানা দিতে সতর্ক থাকা দরকার। বিদেশিদের তথ্য লুকায় আগের সরকার। এটা কোন স্বার্থে? এ খাতে ১৩ জন বিদেশি বিনিয়োগকারী ৮০ শতাংশ সুযোগ নেয়। তাদের নিয়ে কাজ করা জরুরি।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, ফ্রেইটের ৮০ শতাংশ ব্যবসা বিদেশিদের দখলে। এত বিদেশির দরকার নেই। কারণ, তারা বিদেশি এফডিআই আনেন না। বিদেশিদের এভাবে গুরুত্ব দিল দেশের শিল্প নড়বড়ে হয়ে যাবে।

দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে গ্লোবাল পলিটিক্স বুঝতে হবে। আমরা সব জায়গায় এফডিআই চাচ্ছি। সব জায়গায় কী দরকার আদৌ রয়েছে? এভাবে চলতে থাকলে বিদেশিরা আরো বেশি ডমিনেট করবে।

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সাবেক সভাপতি মাহমুদ হোসেন জানান, বিদেশি বিনিয়োগ বেশি ঢুকলে দেশীয় উদ্যোক্তারা সুযোগ পায় না। এতে দেশের ফ্রেইট বিকাশ হচ্ছে না।

বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এটি এম আজিজুল আকির ডেভিড জানান, দেশের ব্যাংক খাত কড়া সুদ আদায় করে। কখনো কখনো ২৩-২৪ শতাংশ যৌগ সুদ হয়। এত সুদ দিয়ে ব্যবসা চলে না। অনেকে পথে বসে যান। যার সুযোগ নেন বিদেশিরা। বিদেশিরা তো বিনিয়োগ আনে না।

আরও উপস্থিত ছিলেন- নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফা কে মুজেরী, সাবেক সচিব  আলম মো. শহীদ খান, অ্যাডভোকট সৈয়দ মামুন মাহমুদ, ঢাকা স্ট্রিমের কনসালটেন্ট সম্পাদক হাসান মামুন প্রমুখ।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT