ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের আসরে প্রেমিকার বিস্ফোরক দাবি, ভেঙে গেল বিয়ে; রাতেই গলায় ফাঁস বরের বাবার

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩১ জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:৪১
ad003
বরযাত্রী নিয়ে ধুমধাম করে কনের বাড়িতে পৌঁছেছিলেন ছেলে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও চলছিল স্বাভাবিক নিয়মে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে এক তরুণীর উপস্থিতিতে পাল্টে যায় পুরো পরিস্থিতি। 

ওই তরুণী নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করে তাঁদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করলে বিয়ে ভেঙে যায়। অপমান ও মানসিক আঘাত সইতে না পেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বরের বাবা।

মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা (পূর্বপাড়া) গ্রামে।
নিহত ব্যক্তি সুরুজ মিয়া, বর হেলাল মিয়ার (২২) বাবা। 

পুলিশ জানায়, রাত প্রায় ১১টার দিকে বাড়ির পূর্ব পাশে একটি আমগাছের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে হেলাল মিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ১টার দিকে বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে পৌঁছে খাওয়াদাওয়া, গান-বাজনা ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল।

এ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দুই তরুণী বিয়ের বাড়িতে উপস্থিত হন। তাঁদের একজন কুড়িগ্রাম জেলার পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার মোছা. জান্নাতী খাতুন (২৮)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মামাতো বোন মোসাম্মৎ শাহিনুর বেগম (২৮)।
জান্নাতী খাতুন দাবি করেন, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রায় ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে বসবাসও করেছেন। 

তাঁদের ২৮ জুলাই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে হেলাল হঠাৎ মোবাইল ফোন বন্ধ করে নিজ এলাকায় চলে যাওয়ায় সেই বিয়ে আর হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি পূর্বে বিবাহিত ছিলেন, পরে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং আগের সংসারে তাঁর একটি সন্তান রয়েছে।

প্রেমিকার এমন দাবির পর বিয়েবাড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে বিয়ের আয়োজন বাতিল করা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার অংশ হিসেবে বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরযাত্রীরা বাড়ি ফিরে যান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ছেলে বিয়ে করতে গিয়ে এমন অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হওয়া এবং সামাজিকভাবে অপমানিত হওয়ার বিষয়টি সুরুজ মিয়া মেনে নিতে পারেননি। গভীর হতাশা, লজ্জা ও মানসিক চাপে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘাগড়া ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, বিয়ের আসরে দুই তরুণী এসে উপস্থিত হয়ে তাঁদের একজন হেলাল মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের দাবি করেন। এরপর বিয়ে ভেঙে যায়। পরে শুনেছি, বরপক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসে। ঘটনার পর সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর আত্মহত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে বিয়ের আসরে আসা জান্নাতী খাতুন ও শাহিনুর বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT