নদীর কিনারে বাঁশের খুঁটির ওপর ভর দিয়ে চটার মাচান হলো ঘরের মেঝে, প্রায় নষ্ট হওয়া চটের বস্তা আর ঘুনে ধরা কাঠের তক্তা দিয়ে ঘেরা হলো ঘরের দেওয়াল আর পলিথিন দিয়ে ছাউনি হলো ঘরের ছাদ। তার নিচেই পোকা-মাকড়ের সাথে ঝুকি নিয়ে বসবাস হাফিজুর রহমান ও জোহরা বেগম দম্পতির। পরিবারের বরাদ্দকৃত আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরটি তার ছেলে সন্তান-সন্ততি নিয়ে থাকেন। সংশ্লিষ্টদের কাছে একাধিকবার ধর্না দিয়েও আরেকটি ঘর ভাগ্যে জোটেনি তাদের। বাধ্য হয়ে এখানে বসবাস করছেন তারা।
যশোরের মণিরামপুরের পৌর শহরের পাস দিয়ে বইয়ে যাওয়া হরিহর নদীর কিনারে বানানো ঘর যেন কবি জসীম উদ্দীনের সেই ‘আসমানী কবিতা’র আরেক বাস্তব চিত্র। প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে এই ঘরের মধ্যে বসবাস, যা এই সভ্য সমাজে অকল্পনীয়। অসহনীয় গরমে শরীরের থেকে বেয়ে পড়া ঘাম আর বৃষ্টির দিনে পলিথিন ছাদ দিয়ে পড়া পানিতে ভিজে একাকার শরীর যেন বেদন-বিধূর এক অনন্য রুপ তাদের কাছে। বংশপরমপরায় দারিদ্র্যের কোষাঘাতে জীবন সংগ্রামের পথ চলায় এই কষ্ট যেন খানিকটা সুখের বিলাসিতা তাদের কাছে।
বাড়িতে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। বন্ধুর পথ আর ঝোপ-ঝাড় পেরিয়ে ঘরে যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে কসরত করতে হয়। সরেজমিন গেলে চোখে পড়ে জোহরা বেগম কেরোসিনের বোতল নিয়ে সেই খুপরি ঘরে ঢুকছেন। কি হবে কেরোসিন-এমন প্রশ্নের জবাবে কুড়িয়ে আনা ভিজা লাকড়ি দিয়ে রান্না করা যায় না, তাই কেরোসিন দিয়ে লাকড়ি জ্বালিয়ে দুপুরের রান্না করা হবে। কয়েকশ’ গজ দূরে জমি দেখিয়ে বলেন, ওই খানে অনেক কষ্ট করে একজনের জমিতে ঘর বানিয়ে থাকতেন।
গেলো বছর নদী খননের সময় সংশ্লিষ্টরা ভেঙ্গে দেওয়ার পর ফের ঘর করে দেওয়ার কথা বললেও আজও তৈরী করে দেওয়া হয়নি। স্বামী হাফিজুর রহমান কাক ডাকা ভোরে পায়ে হেটে ভাঙ্গড়ি কোড়াতে বের হন। দুই ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। নাতী-নাতনীও হয়েছে। সরকারি একটা ঘর, যেখানে তার ছেলে বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে এখানে বসবাস।