বান্দরবানের দুর্গম সীমান্তাঞ্চল পোয়ামুহুরী এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা ও যাতায়াত সহজ করতে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার পাশাপাশি চাঁদের গাড়ি ও নৌকা চলাচলের উদ্বোধন করেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩১ বীরের আলীকদম জোন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে আলীকদম উপজেলার ৪ নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিদ্যামনি পাড়ায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলীকদম জোনের অধীন পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পে ৩১ বীরের মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন খন্দকার রায়হান আহমেদের নেতৃত্বে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ১৩০ জন রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ জন পুরুষ ও ৫০ জন নারী ছিলেন।
পরে আলীকদম জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি আলীকদম–পোয়ামুহুরী সীমান্ত সড়কে একটি চাঁদের গাড়ি এবং পোয়ামুহুরী–সিন্দুমুখ পাড়া নৌপথে একটি নৌকা চলাচলের উদ্বোধন করেন।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আলীকদম জোনের তত্ত্বাবধানে বেসামরিক চালকের মাধ্যমে চাঁদের গাড়ি ও নৌকা পরিচালিত হবে। প্রতিদিন আলীকদম থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত দুই দফা এবং পোয়ামুহুরী থেকে সিন্দুমুখ পাড়া নৌপথে দুই দফা যাতায়াত করবে এসব পরিবহন।
স্থানীয়দের যাতায়াত ব্যয় কমাতে ভাড়াও অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগে চাঁদের গাড়ি ও নৌকায় যাতায়াতের জন্য জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়া দিতে হলেও এখন তা ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা স্বল্প খরচে সহজে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৩১ বীরের অধিনায়ক, ১৭ ইসিবির অধিনায়ক, ৫৮ ইস্ট বেঙ্গলের উপ-অধিনায়ক, ৩১ বীরের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিপুলসংখ্যক পাহাড়ি বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে জোন কমান্ডার ও তাঁর সফরসঙ্গীরা নৌকাযোগে সীমান্তবর্তী সতীরাম পাড়ায় গিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।