ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই দিনে ঝিনাইদহে দুই শিশুর প্রাণ গেল মোটরচালিত ভ্যানে

author
কালিগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৫:৪০
ad003
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও হরিণাকুন্ডু উপজেলায় দুই দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুটি ঘটনাই ঘটেছে মোটরচালিত ভ্যানের ধাক্কায়। একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা অবৈধ ও বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কে আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

আজ শনিবার (১ আগস্ট) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন মাগুরার শালিখা উপজেলার পিপরুল গ্রামে রাস্তা পারাপারের সময় ইঞ্জিন চালিত ভ্যানের ধাক্কায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ছয় বছর বয়সী শিশু হাফসা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাফসা তার মায়ের সঙ্গে বাজার করতে গিয়েছিল। বাজার শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা একটি যানবাহন থেকে নামেন। এ সময় তার মা ভাড়া পরিশোধ করছিলেন। সেই সুযোগে হাফসা রাস্তা পার হতে গেলে দ্রুতগতিতে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর পরের দিন রোববার (২ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফতেপুর গ্রামে মোটরচালিত পাখিভ্যানের চাপায় রাফিয়া খাতুন (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত রাফিয়া ওই গ্রামের রাহাজ উদ্দীনের মেয়ে।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। তবে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন নিহতের বাবা রাহাজ উদ্দীন।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাবা রাহাজ উদ্দীনের সঙ্গে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ির সামনে একটি ভ্যানে উঠছিল রাফিয়া। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরচালিত পাখিভ্যান শিশুটিকে চাপা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নসিমন, করিমন, আলমসাধু, পাখিভ্যান ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক চালক ট্রাফিক নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাদের দাবি, গত জুলাই মাসেও কালীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, "একটি মুহূর্তের অসতর্কতা ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে আমাদের সন্তানকে হারাতে হয়েছে। প্রশাসন যদি কার্যকর ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।"

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, লাইসেন্সবিহীন ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জনগণকেও সড়ক পারাপার ও যানবাহনে চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

একের পর এক নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারে। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।





সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT